খাগড়াছড়িতে তিন কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সীমান্ত এলাকায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩ কোটি টাকার অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার সকালে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) সদর দপ্তরের বাস্কেটবল মাঠে নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী এসব মাদকসামগ্রী বিনাশ করা হয়।

বিজিবি গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি), খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) ও যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন স্পটে চোরাচালানবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, ইয়াবা, বিদেশি সিগারেট ও উচ্চমাত্রার তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মাদক বিনষ্টকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক বুনন রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বহির্বিশ্বের যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন শক্তির চেয়েও মাদকজাতীয় পদার্থের অভ্যন্তরীণ ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি প্রলয়ঙ্করী। যুবসমাজ ও পরিবারগুলোকে এর মারাত্মক ছোবল থেকে রক্ষা করতে সর্বস্তরে সামাজিক প্রতিরোধ ও সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক ও চোরাচালানের প্রবেশ পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের নির্দেশিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণে সীমান্ত প্রহরী হিসেবে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স অবস্থান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে।’’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মিজানুর রহমান, রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের (৪০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম এবং যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের (২৩ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. মঈনুল আলম।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি বিচার বিভাগের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), খাগড়াছড়ি জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিজিবির সদস্যবৃন্দ সশরীরে উপস্থিত থেকে মাদক নিধন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *