লাইফস্টাইল :
ভোক্তাদের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা ক্রমেই বাড়ছে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোটিন ও ফাইবার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান, বাস্তবে গ্রহণকৃত ফাইবার ও প্রোটিনের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের ‘দ্য স্টেট অব প্রোটিন অ্যান্ড ফাইবার ইন আরবান ইন্ডিয়া’ শীর্ষক গবেষণায়, শহুরে মানুষের প্রোটিন ও ফাইবার সম্পর্কে ধারণা, এগুলো গ্রহণের মাত্রা, সকালের নাশতা ও জীবনযাপনের অভ্যাস নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা প্রতিদিন ৪১ গ্রামের কম প্রোটিন গ্রহণ করেন। এছাড়া ৬১ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে কম ফাইবার গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, ৭৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন। তবে ৫৬ শতাংশ মানুষ আসলে তাদের কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন, সে বিষয়ে ভুল ধারণা রাখেন।
পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা
গবেষণার ফলাফলে পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞানের স্পষ্ট ঘাটতি উঠে এসেছে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোক্তা জানিয়েছেন, তারা দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রকৃত প্রয়োজনীয় পরিমাণটি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।
ফাইবারের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও বেশি। ৫৯ শতাংশ মানুষ দাবি করেছেন, তারা দৈনিক ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে সুপারিশকৃত পরিমাণ বলতে পেরেছেন।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে বড় বাধা কেন?
জরিপ অনুযায়ী, এর অন্যতম প্রধান কারণ খরচ। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের উচ্চমূল্য তাদের জন্য বড় বাধা।
ভারতের পেপসিকো ইন্ডিয়ার ফুডস বিভাগের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা সাকশি ভার্মা মেনন বলেন, প্রোটিন ও ফাইবার সম্পর্কে সচেতনতা থাকলেও খরচ, সহজলভ্যতা এবং পরিচিত খাবারের মাধ্যমে এগুলো গ্রহণের সুযোগের অভাব এখনো ভোক্তাদের জন্য বড় বাধা।
এভারহোপ ক্যান্সার সেন্টারের ফাংশনাল নিউট্রিশনিস্ট ডা. মঞ্জরি চন্দ্র বলেন, ‘বর্তমানে প্রোটিন গ্রহণ নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করে। তাই শুধু আলাদা করে প্রোটিন নয়, শরীরকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি দিয়ে শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ।’
আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, সেখান থেকেই প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। তবে সমস্যাটি খাবারের বিন্যাসে। নিরামিষভোজীদের জন্য ডাল ছাড়াও টফু, পনির, মটরশুঁটি, বাদাম, বীজ ও সজনে ডাঁটার মতো বিভিন্ন খাবার প্রোটিনের উৎস হতে পারে। এসব খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
ফাইবারের অজ্ঞতা সমস্যাকে আরও বাড়াচ্ছে
ফাইবারের ক্ষেত্রে মানুষের জ্ঞানের ঘাটতি আরও বেশি। ৮৯ শতাংশ মানুষ তাদের দৈনিক ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভুল ধারণা রাখেন।
ফাইবারের সর্বোচ্চ উপকার পেতে এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হয়। শুধু দুই টুকরো শসা খেলেই প্রয়োজনীয় ফাইবার পাওয়া যাবে না। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যোগ করলে তা উপকারী হবে।