নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আল আমিন (৩৬) ও হুসেন মিয়া (২২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার আল আমিন উপজেলার মৃত আতর আলীর ছেলে ও হুসেন মিয়া একই এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। গ্রেপ্তার দুইজন মামলার এজাহারনামীয় আসামি। অপর আসামি একই এলাকার আইন উদ্দিনের ছেলে ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মুহিদুল আলম। আজ বুধবার গ্রেপ্তারদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গত রোববার ফ্যাক্টরি ছুটি হওয়ার পর, রাত আনুমানিক ১০টার সময় ওই এলাকার মল্লিকবাড়ী মোড় থেকে অটোরিকশাযোগে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে একটি স্থানে থামেন। সেখান থেকে সামান্য দূরত্বের পায়ে হেঁটে ওই আত্মীয়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময়, পিছন দিক থেকে আসা অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক ধরে রাস্তার পাশে বিশাল জঙ্গলের ভেতর নিয়ে গিয়ে তার চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে আল আমিনের বসতঘরের ভেতর নিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী ওই নারী শ্রমিক গত সোমবার রাতে ভালুকা মডেল থানায় এসে ওই তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হেফাজতে নেয়। অপরদিকে পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পৃথক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মুহিদুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী একই উপজেলার বাসিন্দা ও বিবাহিত। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক মাস যাবত পার্শ্ববর্তী মামারিশপুর গ্রামের জনৈক গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছেন।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি একজন পলাতক আছে, পলাতক আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।