নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাইপ্রাসে তার নিজের নামে দুটি এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এসব হিসাবে লাখ লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদেশে থাকা সম্পদ তিনি সরিয়ে ফেলতে বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাইপ্রাসে হাম্মাদ মুজিবের একটি ব্যাংক হিসাবে ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো জমা হয়। নিজের নামে আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া ‘বাগুটেল লিমিটেড’-এর দুটি হিসাবে যথাক্রমে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ মার্কিন ডলারের জমা ও উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। বাগুটেল লিমিটেডের মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) ব্যবসা চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টেলিকম খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদের অপব্যবহার করে সাইপ্রাসে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে তিন দফায় ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮ ইউরো পাঠানো হয়। ব্যাংক নথিতে এসব অর্থ ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের দাবি, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থগুলো পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার ব্যয় বাবদ যুক্তরাজ্যের একটি কলেজে ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব এসব বিদেশি ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য ২০২০ সালে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথিও পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুদকের ভাষ্য, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া এবং সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে।
আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে সম্পদ গোপন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেন।
মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।
এসব অভিযোগের বিষয়ে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। হাম্মাদ মুজিব বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি আওয়ামীপন্থী বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সাইপ্রাসে বাগুটেল লিমিটেড নামের কোম্পানির কথা বলা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।