ডিএসসিসির প্রকৌশলী মিঠুন শীলের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা জোরদার হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকা প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীলকে শাস্তির আওতায় না এনে উল্টো পদোন্নতি ও বড় প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মিঠুন চন্দ্র শীল ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া ও মান্ডা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া নাসিরাবাদ ও ডেমরা এলাকার ৭৬৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ভুয়া প্রত্যয়ন ও দরপত্র জালিয়াতির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএসসিসির আরেক আলোচিত প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিনের বিভিন্ন বিতর্কিত প্রকল্পে সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মিঠুন শীল। দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজী বোরহানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে মিঠুন শীলের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমনকি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ডিএসসিসির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে স্পর্শকাতর ফাইল ও কম্পিউটারের গোপন নথি চুরির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মিঠুন শীলের বিরুদ্ধে। নিজেদের অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই এসব নথি চুরি করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।

পটপরিবর্তনের পর ডিএসসিসির অনেক কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলি করা হলেও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিঠুন শীলের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং ২০২৫ সালের অক্টোবরে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়। একই সঙ্গে ১ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *