এখনো এমপি পদে বিতর্কিত নজরুল, যে দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের (এমপি হোস্টেল) একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এখন কারাগারে আছেন নজরুল। জামায়াত বলছে, নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো এমপি পদে রয়েছেন তিনি।

এছাড়া নারী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করে মানহানির মামলার আসামি জামায়াতের সংসদ-সদস্য মুফতি আমির হামজা। এছাড়াও একজন মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ বলে মন্তব্য করায় আরেকটি মানহানির মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। কিন্তু এই এমপির বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে দাবি করা হচ্ছে, এত কুইক অ্যাকশন কোনো দলে নেই।এদিকে কয়েকজন সংসদ-সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে। ধর্মভিত্তিক কঠোর সাংগঠনিক কাঠামো ও শক্ত চেইন অব কমান্ডের কারণে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ্যে খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও বিভিন্ন ঘটনায় দলটি চাপে পড়ছে। ভোটার-সমর্থক না হলেও আদর্শিক কারণে যারা এতদিন দূর থেকে জামায়াতকে পছন্দ করতেন, তাদের একটি অংশের মধ্যেও দলটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ফলে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সরব থাকার পাশাপাশি ঘরে-বাইরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াতকে।

 

তবে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা এসব অভিযোগ ও সমালোচনার সঙ্গে একমত নন। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো দলের অবস্থান মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কয়েকজনও বলছেন, ব্যক্তির ভুল বা বিতর্কের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো সমীচীন হবে না। বরং অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ৯টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার পর সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যেই দলটির কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে দলটিকে। বিশেষ করে এক সংসদ-সদস্যের নারীঘটিত ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণ, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ দলটির ঘোষিত আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *