সন্তান কোলে ভোলা থেকে শাহবাগে মিতু, ‘নিয়োগপত্র পেলেই চলে যাব’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কোলে দেড় বছরের সন্তান। ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছেন মিতু রানী দাস। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি তিনি। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন এই প্রার্থী। শুধু মিতু নন, তার মতো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা।

তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট করতে হবে এবং দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে।

ভোলা থেকে আসা মিতু রানী দাস বলেন, আর কী বলব, এই গরমে বাচ্চা নিয়ে আসা এতটা কষ্টকর। এটা একজন সাধারণ মানুষ সবাই বুঝতে পারে। এখন এই কষ্টটা আমাদের কেন হচ্ছে?

নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে পেরেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, এখনো জানতে পারিনি। আমার বাবা কৃষক। কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রামের ছোট পরিবার। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও নিয়োগপত্র না পাওয়া হতাশার।

নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানতে পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মিতু বলেন, না, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিক (ছদ্মনাম) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা এই প্রার্থী জানান, এর আগে তার দুটি সরকারি চাকরি হয়েছিল। একটি সমবায় অধিদপ্তরে এবং অন্যটি কারা অধিদপ্তরে। তবে বাড়ি থেকে দূরে পোস্টিং হওয়ায় তিনি দুটি চাকরিই ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন, প্রাইমারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরে আমার ইচ্ছা ছিল যে বাড়ির কাছাকাছি থেকে চাকরি করব, পাশাপাশি কিছু করব। এই কারণে আমি দুইটা জব ছেড়ে দিই।

তিনি আরও বলেন, ছেড়ে দেওয়ার পরে এই যে এখান থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয় ২৪ তারিখে, ওইখানে আমার নাম আসে নাই। নাম যখন আসে নাই তখন ডিপিও স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। উনারা বলল যে উনারা কিছুই জানে না, অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে। এখন এই শাহবাগে দাঁড়িয়ে।

বরিশালের উজিরপুর থেকে এসেছেন স্মৃতি রানী। তিনিও এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি। নিয়োগপত্র পাওয়াকেই তাদের একমাত্র দাবি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এখানে আসছি আমাদের একটাই দাবি, ন্যায্য দাবি, ন্যায্য অধিকার আমরা আদায় করতে চাই। আমাদের এক দাবি ছিল শুধু যে নিয়োগপত্র হাতে চাই। আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নাই। আমরা নিয়োগপত্র পেলেই আমরা এখান থেকে চলে যাব।

তিনি বলেন, তো সেই ক্ষেত্রে আমাদের দাবিও সরকার মেনে নিচ্ছে। অনেক জেলারগুলোরই নাকি তারা ওয়েবসাইটে দ্রুত পাবলিশ করছে। বাট আমাদের জেলার বরিশালে এখনো আমরা হাতে পাইনি। আমরা আমাদের ঐক্য ছিল যে শুধু এক জেলা না, পুরো ৬১টা জেলারই পাবলিশ হলে আমরা এখান থেকে চলে যাব। সবাই নিয়োগপত্র ইস্যু হলে আমরা চলে যাব।

এদিকে বিকাল ৫ টায় অবস্থা কর্মসূচি স্থানে সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্দোলনকারীরা। তারা বলেন, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কারণ অজানা। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কে, আমরা জানি না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলে, সকল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। আবার মন্ত্রণালয় বলে, জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। আর জেলা অফিস বলে, দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা?

তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ব্যক্তি এবং সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাইরে যোগ্য সব প্রার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশনে ২ হাজার ৩৮৫ প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *