নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার বাঙ্গরায় পরিবারের সদস্যদের সামনেই আনোয়ার হোসেন নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর নিজ বাড়িতে আসতেই প্রকাশ্যে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রোববার ভোরে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৪৫) শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি পেন্নাই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। ওই ইউপি সদস্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামের অন্য একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিপক্ষের লোকজন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে গ্রামছাড়া করা হয়।
শনিবার গভীর রাতে গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন আনোয়ার। খবরটি জানাজানি হতেই রাত ৩টার দিকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার বাড়িঘর ঘেরাও করে। এ সময় স্ত্রী-সন্তানদের সামনেই তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার শ্বশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বলয়ের রাজনীতি করতেন। হামলাকারীরা মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অনুসারী। রাতে পেন্নাই গ্রামের কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ঘরে ঢুকে স্ত্রী-সন্তানদের সামনেই কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদের শেল্টারে রয়েছেন। সামনে ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে