নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাস্টাররোল নিয়োগে লাখ লাখ টাকার লেনদেন ও ভুয়া বিল-ভাউচার; বিগত সরকারের প্রশংসাসূচক ফেসবুক পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন.?
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আর্থিক নথি নিষ্পত্তি, নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ‘দাবি পূরণ’ না হলে গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর দিতে অনীহা দেখানো হয়।
সম্প্রতি বিষয়ভিত্তিক সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণের একটি ফাইল থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে একাডেমিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থ নেওয়ার পরও আরও বেশি টাকা দাবি করা হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘ওসমানী যাত্রাপালা’র ডকুমেন্টারি বিল থেকেও ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে রেকর্ড ও দালিলিক প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মাস্টাররোল কর্মচারী নিয়োগে লাখ লাখ টাকা লেনদেন এবং কর্মচারীদের বেতন থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঈদ বোনাস ও ‘অনজব ট্রেনিং’-এর নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে প্রশাসনের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পূণ্যলাক্ষ চাকমা, কেয়ারটেকার মো. সাইদুর রহমান, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন এবং শেখ এহসানুর রহমানের নামও এসেছে।
বিদেশে সাংস্কৃতিক দল প্রেরণসহ বিভিন্ন কমিটির সভা ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও নথির বিপরীতে অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে।
বিগত সরকারের প্রশংসা, বর্তমান পদে বহাল কেন?
সচিব জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রশ্ন হলো তাঁর পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ভূমিকা। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসাসূচক বিভিন্ন পোস্ট তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে এখনও দৃশ্যমান। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—বিগত সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তা বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে কীভাবে বহাল রয়েছেন?
তবে ফেসবুক পোস্ট বা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করাই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি ও পোস্ট যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির সংশোধিত আইনে সচিব পদটির নাম ‘পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)’ করার বিধান থাকলেও বর্তমান দায়িত্ব ও পদমর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পুরনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের অভিযোগও সামনে
২০১৯ সালে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা থাকাকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে ঘুষ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই অভিযোগের বর্তমান আইনগত অবস্থাও যাচাই করা প্রয়োজন।
সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। মহাপরিচালকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে যথাযথভাবে দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা হোক।