মারধরের ঘটনার পর স্নিগ্ধা বললেন, এই শহর অনেক কিছু শিখিয়েছে

বিনোদন ডেক্স :

নিজের জন্মদিনকে ‘নতুন এক জন্ম’ হিসেবে দেখছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে জীবনের কঠিন সময়, মানসিক যন্ত্রণা, মানুষের বিচার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরেছেন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার এই অভিনেত্রী।

স্নিগ্ধার কাছে জন্মদিন মানে শুধু জীবনের আরও একটি বছর পার হওয়া নয়। বরং এই দিনটি তার কাছে ফিরে দেখার সুযোগ—কোথা থেকে শুরু করেছিলেন, আর সময়ের সঙ্গে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নিগ্ধা লিখেছেন, ‘এই শহর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অনেক কিছু দিয়েছে। তবে কোনোটাই সহজে দেয়নি। অনেক দরজা বন্ধ হয়েছে, অনেকবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।’

গত জুলাইয়ে স্নিগ্ধার জীবনে নেমে আসে কঠিন সময়। তিনি মারধরের শিকার হন। এরপর কেটে যাওয়া প্রায় ৪০ দিনকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, এই সময়ে শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক যন্ত্রণা ছিল বেশি।

চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলেন স্নিগ্ধা। এ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন সময়। নিজেকে সময় দিয়েছেন, কেঁদেছেন, ভেবেছেন এবং অনেকটা নীরব থেকেছেন।

মানুষের দ্রুত বিচার করার প্রবণতা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্নিগ্ধার মতে, অনেকেই পুরো ঘটনা না জেনেই একজন মানুষকে ভালো কিংবা খারাপ হিসেবে বিচার করে ফেলেন। আবার কারও জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তকেও তার পুরো পরিচয় হিসেবে দেখেন অনেকে।

তবে এই কঠিন সময় তাকে ভেঙে দিতে পারেনি বলেই মনে করেন স্নিগ্ধা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘যারা ভেবেছিলেন আমি ভেঙে গেছি, হয়তো তারা শুধু আমার নীরবতাটা দেখেছিলেন। আমি জানি, আমি ভাঙিনি। আমি শুধু একটু থেমেছিলাম ক্লান্ত হয়ে। এবার আবার চলার পালা।’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্নিগ্ধা আরও জানান, তিনি অনেক নারীর সামনের দিনের পথচলা সহজ করার চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের শিকার নারীদের হয়ে বিভিন্ন সময়ে কণ্ঠও তুলেছেন তিনি।

জন্মদিনে সব কর্মজীবী নারীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রত্যেক নারীর কর্মস্থল নিরাপদ হোক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *