অল্প বয়সে বিয়ে-চার সন্তান, বিচ্ছেদের পর হয়ে ওঠেন প্রথম সারির নায়িকা

বিনোদন ডেক্স :

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু গল্প রয়েছে, যা শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে, এরপর চার সন্তানের মা। দাম্পত্য জীবনের নানা জটিলতা পেরিয়ে একসময় অভিনয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। পরে হিন্দি সিনেমায় হয়ে ওঠেন পর্দার অন্যতম পরিচিত ‘মা’। তিনি অভিনেত্রী লীলা চিটনিস।

১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া লীলা চিটনিস সে সময়ের তুলনায় বেশ উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। ফলে ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে চিকিৎসক গজানন যশবন্ত চিটনিসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অল্প সময়েই তাদের চার ছেলে জন্ম নেয়।

দাম্পত্য জীবনে অবশ্য সুখী ছিলেন না লীলা। স্বামীর মদ্যপানের কারণে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় তাদের সংসার। চার সন্তানকে নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবার বাড়িতে। এরপর শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে পা রাখেন তিনি।

শুরুতে ছোট ও নামহীন চরিত্রে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেন লীলা। ১৯৩৭ সালের ‘জেন্টলম্যান ডাকু’ সিনেমায় অভিনয়ের পর নজরে আসেন। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ১৯৩৯ সালে ‘কঙ্গন’ সিনেমার মাধ্যমে।

বোম্বে টকিজ প্রযোজিত সিনেমাটিতে পুরোহিতের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন লীলা। ভালোবাসার জন্য বাবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সেই চরিত্র দর্শকের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। দেবিকা রানির পর বোম্বে টকিজের অন্যতম প্রধান নারী তারকা হয়ে ওঠেন লীলা।

অভিনেতা অশোক কুমারের সঙ্গেও তার জুটি জনপ্রিয়তা পায়। ‘বন্ধন’, ‘আজাদ’ (১৯৪০) ও ‘ঝুলা’ (১৯৪১)-এর মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা।

১৯৪১ সালে অভিনয়ের বাইরেও নতুন ইতিহাস তৈরি করেন লীলা। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি ‘লাক্স’-এর বিজ্ঞাপনে অংশ নেন। সে সময় লাক্সের বিজ্ঞাপনে মূলত হলিউডের তারকারাই জায়গা পেতেন। তবে সময়ের সঙ্গে হিন্দি সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের আগমন ঘটে। ফলে নায়িকা হিসেবে লীলার ব্যস্ততা কমতে থাকে। কিন্তু এখানেই থেমে যাননি তিনি। বরং ক্যারিয়ারে আনেন বড় পরিবর্তন।

১৯৪৮ সালের ‘শহীদ’ সিনেমায় দিলীপ কুমারের অসুস্থ মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন লীলা। এই চরিত্রের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। এরপর একের পর এক সিনেমায় মায়ের চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।

‘আওয়ারা’ (১৯৫১)-তে পৃথ্বীরাজ কাপুরের মা, ‘মা’ (১৯৫২)-তে ভারত ভূষণের মা এবং ‘বাঢ়বান’ (১৯৫৪)-এ দেব আনন্দের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পরে ‘কালা বাজার’ (১৯৬০), ‘হাম দোনো’ (১৯৬১) ও ‘গাইড’ (১৯৬৫)-এর মতো সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ মাতৃচরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা ছিল ১৯৮৫ সালের ‘দিল তুঝকো দিয়া’। এরপর ৭৫ বছর বয়সে অভিনয় থেকে অবসর নেন লীলা। পরে সন্তানদের সঙ্গে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে ৯৩ বছর বয়সে মারা যান লীলা চিটনিস। অভিনয়জীবনে নায়িকা থেকে পর্দার চিরচেনা মায়ের চরিত্রে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও স্মরণীয়। সূত্র: এনডিটিভি

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *