যাত্রাবাড়ী থানার যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনের পর সাবেক আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও যাত্রাবাড়ী থানার অনেক আওয়ামী লীগ এখন ও বীর দর্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ,এই সময়েও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এলাকায় থেকে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী,৫০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত কন্টাক্ট আরিফ ওরফে কিলার আরিফ, যাত্রাবাড়ী থানা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মুন্না এবং ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা মারুফের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এরা আগে যাত্রাবাড়ী থানারা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে থাকলেও এখন ৪৮ ওয়ার্ডে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এলাকাবাসীর ভাষ্য, কন্টাক্ট আরিফ ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলার আড়তসংলগ্ন এলাকায় মাদক বিক্রির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে চন্দনকোটা এলাকার আশপাশে যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইয়াবা বিক্রি করা হতো, বর্তমানে সেই একই নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, কন্টাক্ট আরিফের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। কারণ, তার বিরুদ্ধে অতীতেও মারাত্মক সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান মুন্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাত গভীর হলে কলার আড়ত রোড, মদিনা মসজিদ এলাকা, বাগবাড়ী কবরস্থান থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় তার নেতৃত্বাধীন দল। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিরীহ বাসিন্দারা দীর্ঘদিন তার, এবং তার শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ছিনতাই কারীর কপলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। অনেকে অভিযোগ করেন থানার এত কাছে হওয়ার পরেও তারা ধরাছোঁয়ার বাহিরে

এ ছাড়া ইয়াবা ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে হেরোইনসহ অন্যান্য মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুর ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা মারুফ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক সাবেক কাউন্সিলর আতিকুল্লাহর ছেলে জুবায়েরের কাছ থেকে এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছেন। এই জুবায়ের কখনো বিএনপি করেছে এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *