নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় নোয়াখালীর সেনবাগে আরাফাত হোসেন ফাহিম নামের এক এসএসসি পরিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যার মূল আসামি হারুন মিয়াকে গ্রেফতার করে। বুধবার রাতে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে দেবীসিংহপুর গ্রামের হারুন মিয়া, মমিন ও জাহাঙ্গীর একসঙ্গে মাদক সেবন করছিল। একই গ্রামের আরাফাত হোসেন ফাহিম, রকিবুল ইসলাম রিফাত ও শাকিব বাধা দিতে গেলে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাহিমকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। এ সময় ফাহিম, রিফাত ও শাকিব গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিম মারা যায়। এ ঘটনায় ফাহিমের মা পারভিন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় ১১ জনকে আসামি মামলা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল বলেন, দেবীসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। স্থানীয় তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে কয়েকদিন ধরে সেখানে মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার রাতে হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
ফাহিমের বাবা শাহজাহান বলেন, লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে আমানত করে দিলাম।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার জানান, ঘটনার পরপরই মূল আসামি হারুনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিচার দাবিতে লাশ নিয়ে চৌমুহনীতে মহাসড়ক অবরোধ : নোয়াখালী (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, ফাহিম হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে চৌমুহনীতে মহাসড়ক অবরোধ করে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারি বাড়ি মসজিদের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, পুলিশ গিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।