স্পোর্টস ডেক্স :
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির নির্বাচনে খুলনা বিভাগের পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবি নির্বাচনে ওই তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তিন প্রার্থী হলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বড় ভাই শান্তনু ইসলাম সুমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সদস্য আবদুস সালাম।
তিন প্রার্থীর মধ্যে আবদুস সালাম ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিন প্রার্থী বাদে নির্বাচনে ভোট দেবেন আরও আটজন। তারা হলেন নড়াইলের সংসদ সদস্য (এমপি) বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের ভাই ও কালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠু বিশ্বাস, মাগুরার এমপি মনোয়ার হোসেন খানের ভাতিজা রুবাইয়াত হোসেন খান, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির নেতা ও সাবেক খেলোয়াড় রাজু আহমেদ, মেহেরপুরের ক্রীড়াবিদ হাসিবুর জামান এবং বাগেরহাটের সন্তান ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেন।
ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিসিবি নির্বাচনে খুলনা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠকরাই কাউন্সিলর বা প্রতিনিধি হতেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতাদের কাউন্সিলর বানানো শুরু হয়।
২০১২ সালে বিসিবি নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও খুলনা বিভাগ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এবং যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ভাই কাজী এনাম আহমেদ। পরে এই ধারা থেকে বের হতে পারেনি বিসিবি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই ধারার অবসান চেয়েছিলেন ক্রীড়া সংগঠকরা। মর্জিমতো কাউন্সিলর তৈরির অভিযোগের মুখে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেয় বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এবার যে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে, তাতেও রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে।খুলনা বিভাগের ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুলনা বিভাগ ও ১০টি জেলা থেকে যে ১১ জন কাউন্সিলর চূড়ান্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজন। বাকি দুজন ক্রীড়া সংগঠক হলেও তাদের দলীয় পরিচয় আছে। অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজন বিএনপি নেতা, একজন স্থানীয় এমপির ভাই, একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাই এবং একজন এমপির ভাতিজা। তাদের বেশির ভাগই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত ছিলেন না। জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচনও করেননি অনেকে।