দিনে ২টি করে ডিম খাওয়ার উপকারিতা কী

লাইফস্টাইল ডেস্ক:ডিম দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত এবং অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নিয়মিত স্থান পেয়ে থাকে। প্রোটিনের ভালো উৎস হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন দুটি ডিম খেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন দুটি ডিম খাওয়া উপকারী হতে পারে।

একটি বড় ডিমে প্রায় ৭০–৭২ ক্যালোরি এবং প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। পাশাপাশি এতে কোলিন, বি–ভিটামিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।দুটি ডিম খাওয়ার ফলে শরীর প্রোটিনের পাশাপাশি এমন কিছু উপাদান পায়, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়তা করে। ডিমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। এছাড়া প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাস্তায় ডিম খেলে তা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। অন্যান্য হালকা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় ডিম ধীরে হজম হয়, ফলে মাঝখানে অতিরিক্ত খাবারের চাহিদাও কমতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে স্থিতিশীল শক্তি অনুভব করা, খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক খাদ্য গ্রহণের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে এসব উপকারিতা আরও ভালোভাবে পাওয়া যায় যখন ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার যুক্ত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম এককভাবে কোনো জাদুকরি খাবার নয়; বরং এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, শস্যদানা ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে ডিম খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, মাখন বা পরিশোধিত রুটির সঙ্গে খেলে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কমে যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *