স্টাফ রিপোর্টারঃ জসিম উদ্দিন
দেশের চিকিৎসা সেবার সর্বোচ্চ ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আশার আলো নিয়ে আসেন, সেখানেই এখন চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে আইনি ও বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি। টাকার বিনিময়ে স্পর্শকাতর ডিএনএ (DNA) রিপোর্ট পরিবর্তন এবং জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন হাসপাতালের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম।
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যে জানা যায়, একটি সংবেদনশীল মামলার বাদী পক্ষ তাদের প্রয়োজনীয় ডিএনএ রিপোর্ট তুলতে গেলে কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সরাসরি ১০,০০০ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী ৫,০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করলে সাইফুল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের অসৎ দাবিতে অনড় থেকে তিনি জানান, “আমার ক্লিয়ার কথা, টাকা ১০,০০০-ই লাগবে।” টাকা না দিলে রিপোর্ট আটকে রাখা বা পরিবর্তন করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এভাবেই হরহামেশাই চলছে অর্থ আদায়।
অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে আরও জানা গেছে, কেবল ডিএনএ রিপোর্ট জালিয়াতিই নয়—বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ) বিভিন্ন মামলার আসামিদের দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সাইফুল। মোটা অঙ্কের (লক্ষাধিক টাকা) ঘুষের বিনিময়ে গুরুতর অসুস্থতার ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে দেন তিনি, যা ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর গলে বিদেশে চম্পট দিতে সমর্থ হয়।
ঘটনার সতত্য যাচাইয়ে কর্মচারী সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ফোন ধরলে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের কথা শুনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। একই সাথে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বারবার অনুরোধ ও তোষামোদ করতে থাকেন তিনি।
একটি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।