নিজস্ব প্রতিবেদক :
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার আরেক অভিযুক্তকে আদালত খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন। রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার আরেক অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সাংবাদিক মশিউর রহমানের পরিবার।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাংবাদিক মশিউর রহমান রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় যুগের আলোর অফিসে যান তিনি। এরপর রাতে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরের ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যার শিকার উৎস রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মা নুরজাহান বেগম নুরী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় এবং আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ এ রায় দেওয়া হয়।
মামলার বাদী নুরজাহান বেগম বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টারমাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূল হোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।’