হামের প্রকোপ মমেক হাসপাতালে ১১ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামের উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়। ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৯৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৩৭৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২২৬ জন। এখন পর্যন্ত হাম ও এর জটিলতায় মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হালুয়াঘাটের শাপলা বাজারের ৪ মাস বয়সী এক শিশু ‘সন্দেহজনক হাম ও নিউমোনিয়া’য় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নেত্রকোনার কলমাকান্দার চার মাস বয়সী এক শিশু হাম, মারাত্মক নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিওর জনিত জটিলতায় মারা যায়। সন্ধ্যায় ৭টা ৩৫ মিনিটে ফুলপুরের তিন মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম, তীব্র নিউমোনিয়া ও জন্মগত হৃদরোগ (এএসডি) শনাক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জের মদনপুরের ৮ মাস বয়সী এক শিশু হাম, নিউমোনিয়া ও মারাত্মক অপুষ্টি নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিটে শিশুদের মৃত্যু এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফোকাল পারসন ডা. উমর ফারুক বলেন, ‘আসলে সিচুয়েশন খারাপ হয়নি। এসব রোগীর অবস্থা আগেই খারাপ ছিল। মারা যাওয়া একটি শিশু অনেক দূর থেকে এসেছে। একজন রোগীর তীব্র হাম ছিল, তার সাথে তীব্র অপুষ্টি ছিল। সে প্রায় ১৮ দিন আমাদের এখানে চিকিৎসা পেয়েছে। তীব্র অপুষ্টি যাদের থাকে তাদের ইমিউনোলজিক্যাল সব সিস্টেম একদম কমে যায়। শিশু একদম কঙ্কালসার অবস্থায় থাকে।’

তিনি আরও জানান, আরেকটা শিশুর জন্মগত ছিদ্র ছিল হার্টে। জন্মগত ত্রুটি হার্টে খুবই কম পাওয়া যায়। তো যখনই এই ত্রুটির সাথে হাম হবে, তখন কিন্তু একদম কন্ট্রোল করা যাবে না। বাকি রোগীদের মারাত্মক নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেলিওর ছিল। তার মানে যেসব রোগী কালকেই মারা গেছে, তাতে ধরে নেওয়া যাবে না যে, হঠাৎ করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছি। শিশু স্বাস্থ্যের এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে বাবা-মায়ের উচিত লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *