হঠাৎ কেন পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মোবাশ্বের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। তার এই আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়ার প্রায় দুই বছর না যেতেই মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। তাতে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হলেও তিনি বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগে (লোকপ্রশাসন) যোগ দিয়েছেন। এর পেছনে প্রশাসনিক, নীতিগত কিংবা রাজনৈতিক কোনো চাপ ছিল-এ নিয়ে পিএসসির ভেতরে ও সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে নানা আলোচনা।

এ প্রসঙ্গে মোবাশ্বের মোনেম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কাজের চাপ, বয়সজনিত সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যেতে চাইছিলেন তিনি। কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর পিএসসির দীর্ঘদিনের জট নিরসন, বিসিএস পরীক্ষার সময় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু বড় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ পরিকল্পনা। একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

এই পরিকল্পনার আওতায় ৪৪তম, ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় ৭ হাজার ৬৫১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫০তম বিসিএসের ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিসিএস পরীক্ষার প্রচলিত কাঠামোতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি, মৌখিক পরীক্ষা ‘কম্পিটেন্সি বেজড’ করা, প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং কোচিংনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস স্থাপন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যও নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিসিএসের আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়। এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি পিএসসির পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিও সামনে আনেন চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার গুঞ্জন ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *