নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় নিয়োগ পাওয়া ৪৫ সার ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এই নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনের সংসদ সদস্যরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন তারা।সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, জেলার চারটি উপজেলায় নতুন করে ৪৫ জন জনকে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪২ জনকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। যার মধ্যে অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা। রয়েছেন নেতার স্ত্রী বা স্বজনরাও। এমনকি এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত লোকজন। কিছু স্থানে হয়েছে আর্থিক লেনদেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল অভিযোগ করে বলেন, এবার সার ডিলার নিয়োগে বিগত সময়ের অনিয়মের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এর আগে যারা সার ডিলার ছিলেন তারা তৎকালীন সরকারের কোনো বড় পদধারী ছিলেন না। অথচ এমন দলীয়করণ করা হবে বলেই তড়িঘড়ি করে নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে। যাতে জনপ্রতিনিধিদের বাইরে রেখেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইচ্ছামতো দলীয়করণ বা সরকারিকরণের অসদুপায় অবলম্বন করতে পারেন।
এরপর চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন বলেন, এবার যারা সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন তারা কেউই ব্যবসায়ী নন। নথিপত্র খুঁজলে দেখা যাবে এবারই নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। কেউ কেউ তো রাজনৈতিক দলের নেতার স্ত্রী ও ছেলে। গোটা জেলায় এভাবেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ দলীয়করণে নিয়োগ কমিটির প্রধান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক যেমন দায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতারাও দায়ী। এখানে জেলা প্রশাসক দলীয় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমন কাজ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জীবননগর উপজেলা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির হাসিবুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল।