আন্তর্জাতিক ডেক্স:
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির বড় হারে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো বিশ্বনেতারা। তারা আশা করছেন, এর ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি কিছুটা কম সংঘাতপূর্ণ হতে পারে।
তবে এই আশার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সতর্কতাও আছে। কারণ, মার্কিন ভোটাররা রিপাবলিকান পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করলেও তাতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান নাও হতে পারে। একইভাবে শুল্কনীতি কিংবা ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের সীমিত সমর্থনেও পরিবর্তন আসার নিশ্চয়তা নেই।
প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে দেখছেন উদারপন্থিদের ঘুরে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে। এর আগে হাঙ্গেরি, ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে ডানপন্থি নেতারা হেরে গেছেন।
স্পেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক্সে লিখেছেন, মার্কিনিরা ঘৃণা, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকারের প্রবণতা এবং অভিজাতদের বিশেষ সুবিধার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া সানচেজ লিখেছেন, ‘ব্রাজিলে এমনটা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটল। শিগগিরই স্পেনে ঘটবে।’
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেছেন, অধিকাংশ মার্কিনিরা ‘মাগা’ রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত। তারা এখন ভিন্ন পথ চাইছেন। ভোটের ফলাফল সেটির স্পষ্ট বার্তা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ওয়াশিংটনকে ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করবে। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ।
অ্যান্টিগুয়ায় কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বার্নহাম বলেন, ‘বিশ্ববাসীর সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ এসেছে। এটি আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান না হওয়া পর্যন্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমানো সম্ভব নয়।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়ার শুরু করা ইউক্রেন যুদ্ধও একটি বড় সমস্যা। সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে।