স্পোর্টস ডেক্স:
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। জার্সিটি কখনোই শুধু আমার ছিল বলে মনে করিনি। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব আমার হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৫ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৬
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। জার্সিটি কখনোই শুধু আমার ছিল বলে মনে করিনি। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব আমার হয়েছে।’
সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না জানিয়ে রোনালদো আরও লিখেছেন, ‘আজ সেই জার্সি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। কারণ কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়েরও ভূমিকা থাকে।’
২০০৩ সালের আগস্টে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর ২৩ বছরের পথচলায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি করেছেন রেকর্ড ১৪৬ গোল। পুরুষ ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের সংখ্যায় তার ধারেকাছেও নেই কেউ।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এ ছাড়া পর্তুগালের হয়ে দুবার উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাও জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ এই যাত্রায় পেয়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য।
বিদায়বার্তায় নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া যে যাত্রা আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে সবকিছু ফিরে দেখলে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি চোখে পড়ে না। মনে পড়ে মানুষগুলোর কথা। বিদেশে থাকা পর্তুগিজদের কথা, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও নিজেদের মাতৃভূমির আরও কাছে অনুভব করেছেন। এমন লাখো পর্তুগিজের কথা, যাদের কখনো দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন। কারণ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, ফুটবল মানুষের গল্প।’
জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রোনালদো। তার ভাষায়, ‘পুরো ক্যারিয়ারে আমি নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। জিততে চেয়েছি, আরও ভালো হতে চেয়েছি, ইতিহাস গড়তে চেয়েছি। সব সময় নিজের কাছে সর্বোচ্চ প্রত্যাশা রেখেছি। এই জার্সির জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেমন স্মরণীয় জয় এসেছে, তেমনি আছে হতাশার মুহূর্তও। সেসব স্মৃতিও আড়াল করেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। রোনালদো বলেন, ‘এমন কিছু বিকেল ও রাত ছিল, যা কখনো ভুলব না। এমন কিছু জয় ছিল, যা চিরকাল মনে থাকবে। আবার কিছু পরাজয় আছে, যেগুলো মনে করলেও এখনো কষ্ট হয়। ভুল করেছি, কষ্ট পেয়েছি। কখনো কখনো পর্তুগালের মানুষ যা চেয়েছে, তা দিতে পারিনি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব কখনো হারাইনি।’
রোনালদোর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল গত সেপ্টেম্বরে ওয়েলসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। এরপরের ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। পরে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প আগেভাগে ছেড়ে যাওয়ায় জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েন তিনি। যদিও তখন দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে অবসরের কথা অস্বীকার করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন রোনালদো।
জাতীয় দলের হয়ে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এই ঘোষণায় কিছু জানাননি তিনি।