নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদ্যুতের আলোয় নগরী আলোকিত হওয়ার কথা, অথচ সেই বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণের কাজেই যদি নিরাপত্তার অন্ধকার ঘনীভূত হয়, তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে—কার স্বার্থে, কাদের প্রশ্রয়ে চলছে এমন কর্মকাণ্ড? ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) সাবস্টেশন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন এবং স্মার্ট গ্রিড প্রবর্তন (সিএসসিএসজি) প্রকল্পকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এমনই গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এজেন্সি ফ্রান্সিজ ডি ডেভলপমেন্ট (এএফডি) ফান্ডের এই মেগা প্রকল্পে কারিগরি মানদণ্ড উপেক্ষা, অনুমোদনবহির্ভূত কাজ ও সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের কথা উঠে এসেছে, যা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং জননিরাপত্তা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ওপর সরাসরি প্রশ্ন তোলে।
বিশেষ করে ডেমরা এলাকায় বিদ্যমান ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের ওপর দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৩২ কেভি ক্যাবল স্থাপনের বিষয়টি চরম নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহর তদারকিতে বাস্তবায়নাধীন কিছু কাজে কারিগরি বিধিবিধান, অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলশ্রুতিতে লোকসানের আশঙ্কায় ডিপিডিসি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পকেট ভারী করছে লুটেরার দল। এসব অভিযোগের সত্যতা, অনুমোদনের আসল চিত্র এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণে এখন জরুরি প্রয়োজন নিরপেক্ষ কারিগরি পরীক্ষা ও নথিভিত্তিক নিরপেক্ষ তদন্ত।
পদোন্নতি থেকে প্রকল্পের দায়িত্ব—পেছনে কী?
ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন হাবিবুল্লাহ। হয়ে উঠেছিলেন চরম বিশ্বস্ত। আর তারই পুরস্কারস্বরূপ সে সময় জ্যেষ্ঠতার ক্রম অতিক্রম করে অন্তত চারজন কর্মকর্তাকে পেছনে ফেলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে পদোন্নতির নথি, প্রযোজ্য চাকরিবিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তৎকালীন প্রশাসনিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন। আরও অভিযোগ, ওই সময়কার সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সখ্যমাখা যোগাযোগ এখনো অটুট রয়েছে। আর এসব অভিযোগের সত্যতা প্রকল্পের অর্থব্যয়, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন তদারকির রেকর্ড পরীক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই মিলবে।
বিদেশি ঠিকাদার, দেশীয় সাবকন্ট্রাক্টর
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, সিএসসিএসজি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টাব্রো (এলঅ্যান্ডটি) কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি সিএসসিএসজি প্রকল্পের কাজটি বাংলাদেশি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাবকন্ট্রাক্টে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সাবকন্ট্রাক্টে কাজ পাওয়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পারভেজ আবীর চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সাবকন্ট্রাক্ট প্রদানের ক্ষেত্রে মূল চুক্তির শর্ত মানা হয়েছে কি না, ডিপিডিসির প্রয়োজনীয় সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট কাজের নকশা অনুমোদিত ছিল কি না, ক্যাবল লেয়িংয়ে ডিপিডিসি প্লানিং ডিভিশনের অনুমতি রয়েছে কি না এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকৌশলগত তদারকি যথাযথভাবে হয়েছে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল অবকাঠামোয় চুক্তির শর্ত কিংবা নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার পরিণতি সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
এলঅ্যান্ডটি কনস্ট্রাকশনের বাংলাদেশের প্রধান সুব্রত দত্ত গুপ্তের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী এমনটি হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেয়েছে এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাবকন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মূল ঠিকাদারের বাংলাদেশীয় প্রধান প্রতিনিধির বক্তব্যে সাবকন্ট্রাক্টের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও অভিযোগে উল্লিখিত কারিগরি বিচ্যুতি বা অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি হয়নি।
পারভেজ আবীর চৌধুরীর সঙ্গে গত ২৮ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর বিদেশে যাবেন এবং ১৩ অক্টোবর দেশে ফিরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এ ব্যাপারে তাঁর আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উদ্বেগ ১৩২ কেভি ক্যাবল নিয়ে
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ডেমরা এলাকায় ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিটুজি ও পিডিএসডি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ৩৩ কেভি এবং ১১ কেভি ক্যাবলের ওপর দিয়ে সিএসসিএসজি প্রকল্পের ১৩২ কেভি ক্যাবল বসানো হয়েছে। এ ধরনের বিন্যাস অনুমোদিত নকশা, প্রযোজ্য কারিগরি মানদণ্ড এবং নিরাপদ দূরত্ববিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। জিটুজি প্রকল্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে শুধু ভিন্ন ভোল্টেজের ক্যাবল একই করিডরে রয়েছে—এ তথ্যের ভিত্তিতে বিন্যাসটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি বা বিপজ্জনক বলা যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে ক্যাবলের পারস্পরিক দূরত্ব, সুরক্ষাব্যবস্থা, তাপীয় সক্ষমতা, যান্ত্রিক সুরক্ষা, স্থাপনপদ্ধতি, অনুমোদিত নকশা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল মানদণ্ডের ওপর। ফলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নকশা যাচাই এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ক্যাবল স্থাপনের সময় প্রয়োজনীয় স্তরবিন্যাস ও সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। পাশাপাশি ডিপিডিসির পরিকল্পনা বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদি নথিপত্রে অনুমোদনের ঘাটতি কিংবা নির্ধারিত নকশা থেকে বিচ্যুতির প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি ক্যাবলের ওপর উচ্চ ভোল্টেজের ১৩২ কেভি ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটলে নিচে থাকা ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং প্রাণহানির পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
এ ধরনের ক্ষতি হলে মেরামতের ব্যয় যেমন বাড়তে পারে, তেমনি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো পুনরুদ্ধারও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে একাধিক বিদ্যুৎ লাইনের একই করিডরে অবস্থানের ক্ষেত্রে ত্রুটির বিস্তার, তাপ ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি মেরামতের সুযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই বিশেষজ্ঞের সতর্কতাকে আমলে নিয়ে প্রকল্পটির সংশ্লিষ্ট অংশে স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা করা জরুরি। তবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং ইতোমধ্যে সংঘটিত ক্ষতির বিষয় দুটি পৃথক; প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে পরীক্ষালব্ধ তথ্য অপরিহার্য।
রোড কাটিংয়ের অনুমতি ও অর্থব্যয়ের প্রশ্ন
ক্যাবল স্থাপনের কাজ ঘিরে আরেকটি অভিযোগ হলো, সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই রাস্তা কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনুমোদন ও বাস্তব কাজের মধ্যে অসংগতি থাকা সত্ত্বেও রোড কাটিংয়ের জন্য বরাদ্দ বা সংশ্লিষ্ট অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগটি যাচাই করতে সড়ক কাটার অনুমতিপত্র, সংশ্লিষ্ট সংস্থার ছাড়পত্র, কার্যাদেশ, পরিমাপবই, বিল-ভাউচার, অর্থ ছাড়ের নথি এবং কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়ন একসঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়াই কাজ করা হয়ে থাকলে তা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। আর অর্থ উত্তোলনের পর প্রকৃত কাজের সঙ্গে হিসাবের অমিল পাওয়া গেলে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করতে হবে।
ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক নিয়ে অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, সাবকন্ট্রাক্টে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে বিগত সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ চারজনের একজন হলেন পারভেজ আবীর চৌধুরী।
প্রকৃত অনুসন্ধানে দেখা দরকার, দরপত্রে প্রতিযোগিতা কতটা স্বচ্ছ ছিল, যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, সাবকন্ট্রাক্টের অনুমোদন রয়েছে কি না এবং প্রকল্পের অর্থব্যয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না। ব্যক্তি-পরিচয়ের চেয়ে নথি, চুক্তি ও লেনদেনের প্রমাণই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
দায় কার, জবাবদিহি কোথায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদারের দাবি, প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট অংশে ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজের মধ্যে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে ডিপিডিসি এবং পরবর্তী সময়ে সরকারকে দায় বহন করতে হতে পারে। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, কাজের মান যাচাই, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রুটি শনাক্তের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরা নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন কি না।
প্রকল্প পরিচালক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগসংক্রান্ত প্রশ্ন পাঠিয়ে খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত উত্তর মেলেনি। জিটুজি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা সফল হয়নি। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা হাবিবুন্নাহারের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে সিএসসিএসজি প্রকল্পের ক্যাবল স্থাপন, অনুমোদনপ্রক্রিয়া, সাবকন্ট্রাক্টের শর্ত, রোড কাটিংয়ের ছাড়পত্র এবং অর্থব্যয়ের হিসাব নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিতর্কিত অংশের স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নথির নিরীক্ষা এবং দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা। নিরাপত্তাঝুঁকি নিশ্চিত হলে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপও নিতে হবে।
রাষ্ট্রীয় প্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থের ক্ষেত্র হতে পারে না। বিদ্যুৎ অবকাঠামোর প্রতিটি তার, প্রতিটি সংযোগ এবং প্রতিটি ব্যয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জননিরাপত্তা ও জনগণের অর্থের দায়। তাই অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান পরিষ্কার করাও সমান জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হাবিবুল্লাহকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ডিপিডিসির তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কতটা কার্যকর—তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা