এনবিআরে ফুয়াদের ‘জালিয়াতির সাম্রাজ্য’!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১২-এ কর্মরত ফুয়াদ হাসান আকন্দকে ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্য, তথ্য জালিয়াতি ও বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন বিভাগীয় সহকারী পদে ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে তাঁর নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে ওঠার দাবি করেছেন অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সঙ্গে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ছোট ভাইকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাইয়ে দিতে ঠিকানা জালিয়াতির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা এনবিআরের নিয়োগপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

নিয়োগ বাণিজ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফুয়াদ। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রটির দাবি, গত সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তত ১১ জন প্রার্থীকে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, লেনদেনের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভাইয়ের চাকরিতে ঠিকানা জালিয়াতির অভিযোগ

অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক ফুয়াদের ছোট ভাই শামীম আশরাফের নিয়োগ। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ময়মনসিংহের ত্রিশালের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও শামীমকে ঢাকা জেলার বাসিন্দা দেখিয়ে যাত্রাবাড়ীর একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এভাবে ঢাকা জেলার কোটা কাজে লাগিয়ে তাঁকে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফুয়াদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে শামীম আশরাফ কর সার্কেল-২৬৩ (সাভার)-এ কর্মরত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পরিবারের সদস্যদের নামেও স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন ফুয়াদ। এসব সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও বাজারমূল্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। তাঁর ঘোষিত আয়, চাকরির বেতন, আয়কর নথি এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল পর্যালোচনা করলে সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাই ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *