নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুর শহরের নতুন পাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মোশারফ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার নুরন্নেছার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজ বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় মোশারফ হোসেন ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় ঘরে একটি মোবাইল ফোনের রিংটোন শুনে ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন ফোনটি উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর মোশারফ এসে ফোনটি নিজের দাবি করে নিয়ে যায়। এরপর মেয়ের বারবার বাথরুমে যাওয়া-আসা দেখে সন্দেহ হলে মা তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন ছাত্রী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর জিআর ১১২/২০২৫ এবং শিশুনির্যাতন মামলা নম্বর ২৬/২০২৬।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর পারভীন সুলতানা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী।
মামলার বাদী মোছা. আনোয়ারা খাতুন বলেন রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আইনের ফাখ ফোকর দিয়ে আবার যেন বের হয়ে না যায়। উপযুক্ত সাজা পায় সেই প্রত্যাশা রইলো।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ধর্ষণ মামলার উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ধর্ষকরা সাবধান হবে।
আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী বলেন, মোশারফের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।