গোয়ালঘরের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা প্রবাসীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় হাত-পা বাঁধা এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা ও অপমৃত্যুতে প্রাণ গেছে আরও ৩ জনের।

ভৈরবে নিহত প্রবাসী রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির সাত্তার মিয়ার ছেলে। গত ২১ আগস্ট ছুটিতে দেশে আসেন তিনি।

নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, রুকন সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। দেশ থেকে ফিরে সুপারভাইজার হিসেবেই কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, ঘুরতে যাওয়ার জন্য কেনাকাটা করার কথা বলে ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি টাকাটা দিয়েছিলাম। সে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে বলে সোমবার ভৈরব শহরে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটাও করে।

রুকন উদ্দিনের মা অনুফা বেগম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল ওর। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। রাত ১টার দিকেও ওকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। নিহতের বোন উম্মে হাবীবা বলেন, রাতে ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ওর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নিয়ে গেছে। আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, আমাদের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসাধীন আ.লীগ কর্মীর মৃত্যু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত আওয়ামী লীগকর্মী মো. মনছুর আজ ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড গোলাবাড়িয়া এলাকায় দুর্বৃত্তরা এক সপ্তাহ আগে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায়।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। গত রোববার মনছুরের পরিবার মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একজনের গলায় আঘাত, আরেকজনের ঝুলন্ত মরদেহ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ওই ঘর থেকে গলায় ধারালো অস্ত্রে আঘাত পাওয়া এক তরুণকে উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনে ঝাকালিয়া ইছামুদ্দিনের বাড়ির মসজিদের পাশের ঘরে থাকতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে চিৎকার শুনে ওই ঘর থেকে গলায় আঘাত পাওয়া অবস্তায় সোহান মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে ওই ঘরে ইমাম শামীম মিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

কটিয়াদী হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক জানান, সোহানের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোচ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেছি।

কটিয়াদী থানার ওসি তদন্ত রনজিত সাহা জানান, ইমাম শামীমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কটিয়াদী থানায় শামীমের ভাই আবুল হোসেন একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। গুরুতর আহত সোহানের গলায় গত রাতে অপারেশন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *