বাবাকে হত্যায় ছেলেসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শান্তিলাল চাকমাকে হত্যার দায়ে ছেলেসহ দুজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা। রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত থাকলেও আলোময় চাকমা এখনও পলাতক।

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকার বাসিন্দা শান্তিলাল চাকমা রাতের খাবার শেষে ঘুমাচ্ছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে ওই রাতে আলোময় চাকমা ও সোহেল চাকমা ঘরে ঢুকে তাঁকে প্রথমে মারধর করেন। পরে বসতঘর থেকে ২০০ গজ দূরে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। আলামত গোপন করতে মরদেহ গাছের সঙ্গে বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ি ছড়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে কাচালং নদী থেকে পুলিশ তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) প্রতীম রায় পাম্পু জানান, রাঙামাটিতে আদালত প্রতিষ্ঠার পর এটাই প্রথম কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালত উপযুক্ত বিচার করেছেন।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী রাশেদ ইকবাল বাবু জানান, আসামিরা নির্দোষ। আসামি সোহেল চাকমার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না এবং আলোময় চাকমা পলাতক। এই রায়ে তারা ক্ষুব্ধ। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *