নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হলে মেধার মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে দাবি করেছেন চাকসু নেতারা।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিয়োগ নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘ভাইভা নিয়ে প্রহসন চলবে না’, ‘চাকরি নিয়ে দলীয়করণ চলবে না’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সঞ্চালনায় সহদপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন বলেন, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর রাখা হলে রাজনৈতিক পরিচয় ও এলাকার প্রভাব কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে ঘুষ-বাণিজ্যেরও আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
চাকসুর সহদপ্তর সম্পাদক আরও বলেন, ‘আগে কোটার মাধ্যমে বৈষম্য করা হতো, এখন ভাইভার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার আগে সংশ্লিষ্টরাও ভাইভার মাধ্যমে দুর্নীতির আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।
চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে চালু থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করেছিল। এখন আবার বিএনপি সেই পথেই হাঁটছে। দলীয় লোকদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত ১৭ বছরে যাঁদের দৃশ্যমান কোনো অস্তিত্ব ছিল না, এখন তাঁদের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের অসৎ উদ্দেশ্য থেকে ফিরে এসে মেধার মূল্যায়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, সহসাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সালমান ফারসীসহ বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধিরা।