নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা এস এম শামীম আকতারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত নানাবিধ প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তাঁর নিকটজন ও একাডেমি সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ একটি অংশ। তাঁদের মতে, একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যক্তিগত আক্রোশ ও দাপ্তরিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।মুলত কিছুদিন পূর্বে একাডেমির সচিবসহ দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় নিউজ হওয়ার প্রেক্ষিতে সকল দুর্নীতিবাজরা একত্রিত হয়ে এস এম শামীম আকতারকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে একাডেমি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন।
নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শামীম আকতারকে রাজশাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ অর্পণ করা হয়েছিল প্রশাসনিক প্রয়োজন ও মেধার ভিত্তিতেই। ইউনেস্কো কর্তৃক স্কলারশিপ পেয়ে দাপ্তরিক নিয়ম মেনেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন, যেখানে কোনো সরকারি ব্যয় বা সুবিধা গ্রহণ ছিল না। ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা হরিলুট বা প্রকল্প থেকে টাকা গায়েবের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজশাহী একাডেমির একজন কর্মকর্তা জানান, সব হিসাব-নিকাশ যথাযথ সরকারি অডিট বা নীরিক্ষার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে কোনো অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষণামূলক বইয়ের লেখকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া বা গবেষণার তহবিল আত্মসাৎ সম্পর্কিত বেনজামিন টুডুর অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
রাজধানীতে ফ্ল্যাট, প্লট, এফডিআর ও গাড়ির অঢেল সম্পদের মালিকানা প্রসঙ্গে জানা গেছে, তাঁর যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য নিয়মিত আয়কর বিবরণীতে সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, এসব অর্জনের পেছনে তাঁর বৈধ পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সঞ্চয় রয়েছে, যার সঙ্গে কোনো অবৈধ আয়ের সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র শামীম আকতারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব মনগড়া অভিযোগের অবতারণা করা হয়েছে।
কোনো সাবেক বা বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার দাবিটিকে সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পারিবারিক বিবাদ ও বৈবাহিক বিষয়টিকে একান্তই ব্যক্তিগত ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটিকে কাল্পনিক রূপ দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক উপস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে, সরকারি কাজে বিভিন্ন গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের তদারকিতে যুক্ত থাকার কারণে স্বাভাবিক নিয়মে অফিসের বাইরে থাকতে হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধাভোগী নন; বরং পেশাগত দক্ষতার কারণেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে আত্মীয়তার কোনো সুযোগ ছিল না। তথাকথিত ফোনালাপের বিষয়টি কার সংগে কে কথা বলেছেন তা প্রকাশ করা হয়নি কাজেই এ বিষয়ে মন্তব্য করাই অবান্তর বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় বা বগুড়ার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি কোনো দলের নাম বা এলাকার নাম ভাঙিয়ে কোন সুবিধা নেননি বরং ফ্যাসিস্টের সহযোগীরাই এখন শিল্পকলার সমস্ত অনুষ্ঠান ও নিয়োগ সংক্রান্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। উনার গ্রামের বাড়ি বা স্থায়ী ঠিকানা যে বগুড়ায় এটা অফিসিয়াল সমস্ত কাগজপত্রে এনআইডি, পাসপোর্ট প্রভৃতিতে পরিস্কার উল্লেখ রয়েছে অথচ জলজ্যান্ত প্রমাণ থাকার পরও দুর্নীতিবাজ একটি পক্ষ শামীম আকতারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে শামীম আকতারকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর পায়তারা করছে বলেও
সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো মিডিয়া ট্রায়াল বা কুৎসা রটনায় কান না দিয়ে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের জোর দাবি জানিয়েছেন একাডেমির কর্মীবৃন্দ।