সিমের মালিকানা বদলে এক রাতে প্রায় দুই কোটি টাকা লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জীবিত ব্যবসায়ীকে মৃত দেখিয়ে তার মোবাইল সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাতিলের পর একই সিম নিজের নামে নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরে ওই নম্বরে থাকা নগদ ও বিকাশের হিসাবে এক রাতে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার চট্টগ্রামের ফল ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দিন হাসান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মাঈনুদ্দিনের করা মামলার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় সিমের মালিকানা পরিবর্তনকারী হিসেবে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর নওবাড়িয়ার বাসিন্দা রায়হান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগিতার অভিযোগে রবির ঢাকার শ্যামলী কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাঈনুদ্দিন হাসান চট্টগ্রাম নগরের বিআরটিসি সংলগ্ন ফলমন্ডির মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে খেজুর ও ড্রাই ফ্রুটসের ব্যবসা করছেন। একই সময় ধরে তিনি রবির একটি সিম বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবহার করে আসছিলেন। ওই নম্বরে বিকাশ ও নগদের এজেন্ট হিসাবও চালু ছিল।

গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় মাঈনুদ্দিনের মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। এতে বলা হয়, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উক্ত নম্বরের ডেথ কেস রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ এর পরপরই তাঁর মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।

বিষয়টি জানতে তিনি দ্রুত চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার রবি সেবা কেন্দ্রে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় ও সিমের নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁকে জানানো হয়, সিমটি আর তাঁর নামে নিবন্ধিত নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার শ্যামলী রবি সেবা কেন্দ্র থেকে সিমটির মালিকানা পরিবর্তন করে রায়হান মিয়া নামে একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের পর ওই নম্বরে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে এক রাতে নগদে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং বিকাশে ১৬ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া মাঈনুদ্দিনের হিসাবে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তিনি।

মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, ‘দোকানে বসে ব্যবসা করার সময় হঠাৎ এসএমএস পাই, আমি মারা যাওয়ায় আমার সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি তখন জীবিত এবং দোকানে বসেই ব্যবসা করছিলাম। পরে জানতে পারি, ঢাকার একটি সেবা কেন্দ্র থেকে আমার সিম অন্য একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সিমটি উদ্ধারের চেষ্টা করার পর ওই নম্বরে ফোন দিলে রায়হান নামে একজন ফোন ধরেন। জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন। পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাঈনুদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রায়হান মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *