নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়, যা বিপৎসীমায় পৌঁছেছে। এতে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়িসহ জেলার হ্রদবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ডুবে গেছে রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, কাপ্তাই হ্রদের অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হ্রদ থেকে পানি ছাড়ার কারণে ভাটির অঞ্চলের লোকজনকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পানি ছাড়া শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়েছে। পরে এদিন রাত সাড়ে ১০টার পর আবার পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রতিটি গেট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হ্রদে পানির স্তর ছিল ১০৬ দশমিক ০২ ফুট বা এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। এর ১০৫ ফুট পার করলে বিপৎসীমা ধরা হয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্থাপনা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাঘাইছড়িতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তবে রোববার দুপুর থেকে পানি সরে যেতে শুরু করেছে বলে জানান বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি আধা ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানান মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।