গাইবান্ধায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের গুদাম থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সরকারের গুদামে অবৈধভাবে মজুত রাখা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় গুদামের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের মনদুয়ার গ্রামের গুদামটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনা করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বিষয়টি  নিশ্চিত করেন।

জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে  বলেন, অভিযানে গুদামে অতিরিক্ত মজুত রাখা বিভিন্ন ধরনের সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫০ কেজির ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ১৬ বস্তা ডিএমপি, ১৩ বস্তা টিএসপি, দুই বস্তা পটাশ (এমওপি) এবং ২৫ কেজির ২৮ বস্তা জিপসাম রয়েছে। এসব সারের আনুমানিক মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গুদামের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সরকার মুঠোফোনে  বলেন, ‘আমি কোনো সারের ডিলার নই। সার মজুতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। যে গুদাম থেকে সার উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি আমার গরুর খামার ছিল। এখন পরিত্যক্ত। আমার এক ভাতিজা কীটনাশক ও খুচরা সার বিক্রি করে। খুচরা সার বিক্রি করা যাবে না শুনে সে দুদিন আগে আমার পরিত্যক্ত ঘরে কিছু সারের বস্তা রেখে যায়। ঘরের চাবিও ছিল তার কাছে।’

সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, সামনে স্থানীয় নির্বাচন। তিনি বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী। প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসাতে প্রশাসনকে খবর দিয়ে ওই সার জব্দ এবং জরিমানা করিয়েছে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন অভিযোগ করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা সার পরবর্তী সময়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *