যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ইতিহাস-সভ্যতা-সম্মান নেই: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক আঘাতেই খতম’ করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মানুষ হত্যা করতে পারলেও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারে না। একই সঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে কটাক্ষ করে ইরান বলেছে, দেশটির কোনো ‘সভ্যতা’ বা ‘সম্মান’ নেই।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এগুলো তাদের ভুয়ো কান্না।

এর পরপরই তিনি দাবি করেন, শোক প্রকাশ করতে জড়ো হওয়া ইরানের বাকি শীর্ষ নেতৃত্বকে এক আঘাতেই নির্মূল করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা সবাই সেখানে উপস্থিত আছে। মাত্র একটি আঘাতেই আমরা তাদের সবাইকে খতম করে দিতে পারি। তবে আমরা তা করব না, কারণ তাহলে আলোচনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়াস্থ ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিষয়টি টেনে ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে দূতাবাসটি লেখে, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙে ফেলেছেন, যার সুবাস এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।”

মার্কিন সংস্কৃতির সমালোচনা করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়, আপনারা এসব বিষয় বুঝবেন না, কারণ আপনাদের কোনো সভ্যতা, ইতিহাস কিংবা সম্মান—কোনোটিই নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর বেশ কিছুদিন বিলম্বের পর তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা ব্যতীত তার বাকি তিন ছেলে এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাষ্ট্রীয় সম্মানে রাখা হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হচ্ছেন। তেহরান, কোম, নাজাফ এবং কারবালায় সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *