নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাদক পরিবহনে কৌশল বদলাচ্ছে কারবারিরা। কখনও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী সেজে, আবার কখনও স্থানীয় বাজার এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে চলছে মাদক পাচার। তবে এমনই দুই অভিনব কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা ব্যর্থ করে বগুড়ায় পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুর উপজেলায় পরিচালিত পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ৫ কেজি ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। র্যাব-১২ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি) বগুড়া এ অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘী এলাকায়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে আমিনা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি মূলত বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় বসবাস করছেন। তার কাছ থেকে ৯৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নাইশিমুল বাজার এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নির্মল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি শেরপুর উপজেলার করিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা। একই সাথে জব্দ করা হয় একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড।
র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাদের যথাক্রমে শাজাহানপুর ও শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।