সাদের গল্পে রাফীর সিনেমা, নির্মাণের আগেই বৈশ্বিক মঞ্চে

বিনোদন ডেক্স :

ঢালিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমার নির্মাতা রায়হান রাফি এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত বিকল্প ধারার সিনেমার প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এক সিনেমার কাজ করছেন। নাম ‘আইজ’। সিনেমাটি ঘোষণার সঙ্গে মিলেছে বড় সুখবর; সিনেমা ভারতের সম্মানজনক ‘কোপ্রো-অ্যাক্সেস ল্যাব ২০২৬’-এ অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে বলে জানালেন রাফি।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের গল্প ও চিত্রনাট্যে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন রায়হান রাফি, যা প্রযোজনা করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমাকে তুলে ধরা তরুণ প্রযোজক তানভীর হোসেন।

ফেসবুক বার্তায় পরিচালক রায়হান রাফি তার বক্তব্য স্পষ্ট করে বলেন, “কিছু চলচ্চিত্র শুরু হয় একটা গল্প দিয়ে। কিছু শুরু হয় প্রশ্ন দিয়ে। ‘আইজ’ শুরু হয়েছে একটি বিশ্বাস থেকে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিকল্প ধারার সিনেমা এবং বাণিজ্যিক সিনেমার মধ্যে একটি কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করে রেখেছি। আমি কখনই বিশ্বাস করিনি যে চলচ্চিত্রকে এই গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা উচিত। একটি সিনেমা আবেগপূর্ণ, বিনোদনমূলক, চিন্তাশীল এবং একই সাথে মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে পৌঁছানোর মতো হতে পারে। আমার জন্য এটাই সবসময় স্বপ্ন।”

সাদ ও তানভীরের সাথে এই যৌথ কাজ নিয়ে রাফি আরও স্পষ্ট করেন, ‘সাদ নিয়ে আসে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নীরবতা, নৈতিক চাপ এবং মানুষের ভঙ্গুর সত্যকে। তানভীর নিয়ে আসে এই মেলবন্ধনকে সম্ভব করার মতো বিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং প্রযোজকসুলভ দূরদর্শিতা। আর আমি নিয়ে আসি আমার গতি, স্কেল, আবেগ এবং দর্শকের সাথে সংযোগের সহজাত প্রবৃত্তি। এই শক্তির মিলনে ‘আইজ’ নিজস্ব একটি ভাষা খুঁজে পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক তানভীর হোসেন তার বিবৃতিতে বক্তব্য আরও পরিষ্কার করে বলেন, ‘আইজ’ একটি বিশ্বাস থেকে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিকল্প ধারা আর বাণিজ্যিক সিনেমার মাঝে যে কৃত্রিম দেয়াল তৈরি করে রেখেছি, আমি তা কখনো বিশ্বাস করিনি। আমি মনে করি প্রতিটা স্থায়ী সিনেমাই শিল্প বহন করে, আর যে সিনেমাই মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায়, তাকে অবশ্যই দর্শক, আবেগ, ছন্দ এবং স্কেল বুঝতে হবে।’

রাফি ও সাদের মেলবন্ধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন রায়হান রাফি এবং এর চিত্রনাট্য লিখেছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। তারা সিনেমার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন শক্তি থেকে এসেছেন। রাফির রয়েছে গতি, স্কেল এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর এক বিরল ক্ষমতা। আর সাদের রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রতিটি ভয়ের নিচে লুকিয়ে থাকা মানুষের ভঙ্গুর পৃথিবী। এই দুই ভিন্ন ধারার মানুষকে এক সুতোয় গাঁথাই এই যাত্রার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ।’

তিনি আরও জানান, এই সিনেমাটি একই সাথে ভীষণ ব্যক্তিগত অথচ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর মতো একটি কাজ হবে, যা বাংলাদেশ থেকে তৈরি হয়ে বিশ্বমঞ্চে ডানা মেলবে।

চলচ্চিত্রটির পাণ্ডুলিপি ও প্রকল্প উন্নয়নের জন্য এটি আন্তর্জাতিক ল্যাবে নির্বাচিত হওয়াকে অত্যন্ত অর্থপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নির্মাতা ও প্রযোজক। তানভীর তার বার্তায় প্রযোজক ল্যান্ড, ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট, তাসভির এবং ইউরোপীয় অডিওভিজ্যুয়াল এন্টারপ্রেনারসসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং ল্যাবের পরামর্শক সেলিন লুপ, মাথিভানান রাজেন্দ্রন ও পূজা মোহিতের প্রতি পুরো টিমের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

দেশের সিনেমার বাজার চাঙ্গা করা রায়হান রাফি এবং কানের অফিশিয়াল সিলেকশনে ইতিহাস গড়া আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের এই যৌথ প্রজেক্টটি রূপালী পর্দায় কেমন ঝড় তোলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় সিনেমাপ্রেমীরা। চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পী ও চিত্রগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই জানানো হবে বলে আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *