দর্শনায় জমি দখলচেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা: সাংবাদিকদের হেয়, হুমকি ও অসৎ উদ্দেশ্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকায় একটি বাণিজ্যিক জমি দখলচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে সাংবাদিকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক, হেয়প্রতিপন্নমূলক ও হুমকিমূলক আচরণের কারণে। অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহ ও সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা উল্টো অপমান, ভয়ভীতি ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের শিকার হয়েছেন।

বক্তব্য নিতে গেলে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিনিধি সরাসরি প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের ‘অথরিটি’ নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং একাধিকবার অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। এমনকি তিনি সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার হুমকিও দেন—যা স্পষ্টতই সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করা বক্তব্যগুলো শুধু অসৌজন্যমূলকই নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকরা কোনো পক্ষের প্রতিনিধি নন—তারা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেই দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হুমকি কিংবা অবমাননা করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মুজিবনগর সড়কের পাশে, দর্শনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জমির মালিক পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াভিত্তিক ব্যবহৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিযুক্ত পক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি ও হেয় প্রতিপন্ন করার ঘটনা।

জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইলেকট্রিক দোকান ও একটি চায়ের দোকান পরিচালিত হয়ে আসছে। জমির মালিক নাহিদ কবীরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে নাসির উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ নাসির উদ্দিন, তার ছেলে শাহরিয়ার কবীর অঙ্কুরসহ কয়েকজন টিন ও বাঁশ দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে বাধা দেন জমির মালিক। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরবর্তীতে গত ৯ জুন পুনরায় ইট, বালি ও সিমেন্ট এনে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দর্শনা পৌরসভার এক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে পরদিন নির্মাণাধীন দেয়ালের ইট খুলে ফেলার ঘটনা নতুন করে বিরোধ উসকে দেয়।

জমির মালিক দাবি করেন, তার নামে ৬.৩০ শতক জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং পূর্বে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে সমঝোতাও হয়েছিল। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের অংশ মাত্র ০.২৬ শতক হলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ সামনের অংশ দখলের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তিনি পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিযুক্ত পক্ষের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নাসির উদ্দিনের ছেলে শাহরিয়ার কবীর অঙ্কুর অভিযোগের জবাব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একাধিকবার তাদের পেশাগত দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে প্রশ্ন করার অথরিটি রাখেন? আপনি কি সাংবাদিকতা শেখাচ্ছেন?”—এ ধরনের বক্তব্যকে সাংবাদিকদের হেয় করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, “আপনি তো থানা-পুলিশ নন, আদালতও নন। আপনি কি বিচার করতে এসেছেন?”—যা সরাসরি সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার শামিল।

একপর্যায়ে তিনি সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার হুমকিও দেন। তার এই আচরণকে অনেকেই সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি প্রদান এবং হেয় প্রতিপন্ন করা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তারা বলেন, কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরা উচিত, সাংবাদিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি নয়।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হোক। অন্যথায় এ বিরোধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌরসভা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *