নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেনকে ঘিরে নানা অনিয়ম, বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী বলয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন শহীদ আতাহার। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্ত সময়ও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। বিশেষ করে ফায়ার ফাইটার, লিডার, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত সদস্যদের বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কর্মস্থলে বদলি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
এদিকে আসন্ন নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য
অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে এখনো কোনো সরকারি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন লাভের ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আতাহারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও তদবির ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একটি আলোচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দীর্ঘদিনেও প্রকাশ না হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যার কারণে প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন
একটি সেবামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা উচিত, আর যদি সত্যতা পাওয়া যায় তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই হলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জনমনের সংশয়ও দূর হবে।