নিজস্ব প্রতিবেদক :দীর্ঘ পাঁচ বছর তিন মাসের আইনি লড়াই শেষে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, বৈধ তালাক ছাড়াই বিয়ে, ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ রায় দেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালতের সিদ্ধান্তে এখন আর নাসির ও তামিমার বিয়েকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তামিমা সুলতানার আগের স্বামী রাকিব হাসানকে দেওয়া তালাকের বৈধতা। আদালত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়ের আলোকে পর্যবেক্ষণ দেন।
এ বিষয়ে আদালতের বরাতে নাসির-তামিমার আইনজীবী বলেন, বিচারক কিছু ফাইন্ডিংস পড়ে শুনিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়; যে রায়ে বলা আছে, তালাকনামার নোটিশ কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে না পৌঁছানোর মানে এই নয় যে—তালাক হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, উচ্চ আদালতের সেই রায় অনুসারে পর্যবেক্ষণে আদালতের বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হলে সেই তালাকের পর তারা আলাদা বা একসঙ্গে থাকবে কিনা তাদের আচরণ বা কন্ডাক্টই মূল বিষয়।
তিনি বলেন, এ মামলার সাক্ষ্য পর্যালোচনায় আদালত বলেছেন—ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ের আগে ২০১৬ সালে তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামী রাকিব হোসেনকে তালাক দিয়ে সৌদি আরব গিয়েছেন। ২০২১ সালে এসে নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তামিমা কতদিন বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন কিংবা রাকিবের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবস্থা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নাসির তামিমার আইনজীবী আরও বলেন, উপরন্তু নাসির-তামিমার আইনজীবীর জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন, তামিমা সুলতানা তালাক দেওয়ার পর নাসিরের সঙ্গে বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে কতদিন তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন জানেন না।
মামলায় তামিমার তালাকনামাকে জাল বলে দাবি করা হলেও সেই অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।
তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচিত এই মামলার আইনি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।