নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাভারে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে রিয়া মনি নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লার তিনতলা ভবনের একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে নিহতের মামা বাদী হয়ে রিয়ার স্বামী ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রনি ইসলাম নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
নিহতের পরিবারের দাবি, রনি তার স্ত্রীকে হত্যা করে কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়েছেন।
নিহত রিয়া মনি (১৯) নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানা এলাকার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে। তার বাবা-মা দুজনই প্রবাসী।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে সাভার পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লায় ডা. তৌহিদুজ্জামানের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় রনি ও রিয়া দম্পতি। কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘রনি গত ৫ জুন ঘোষিত পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পান। এর পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল সে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই রিয়াকে হত্যা করে লাশ কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়েছে রনি। এছাড়া রিয়াকে হত্যার বিষয়টি মোবাইল ফোনে
রনি তার মাকে জানায়। তার মা থানায় কল করে পুলিশকে জানান যে, রিয়া আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের তালা ভেঙে রিয়ার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই রনির ফোনটি বন্ধ রয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, ‘এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা পুলিশ তদন্ত করছে। দলীয়ভাবে আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর রাখছি। অপরাধ করলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’
বিবাহিত হয়েও কিভাবে ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেলেন রনি এ বিষয়ে তিনি সমকালকে বলেন, বর্তমানে বিবাহিতরাও কমিটিতে থাকতে পারবেন বলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত রয়েছে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।