ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে অভিনেত্রী

বিনোদন ডেক্স:কাজের অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ ও মানসিক হতাশা সইতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মৌলি দত্ত। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে শারীরিকভাবে অনেকটা সুস্থ আছেন মৌলি। কিন্তু হঠাৎ নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ কেন নিতে গিয়েছিলেন মৌলি–এমন প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৌলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজের অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ এবং মানসিক হতাশার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের মতো নিয়মিত অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে যে প্রকল্পে কাজ করছেন, সেখানে কাজের দিনও খুবই সীমিত। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের ইএমআই, সংসারের খরচ এবং ব্যক্তিগত ব্যয় তাকেই বহন করতে হয়।অভিনেত্রীর ভাষ্য, নতুন কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও আশানুরূপ সাড়া পাননি। কেউ অপেক্ষা করতে বলেছেন, আবার কেউ জানিয়েছেন যে তাঁর জন্য উপযুক্ত চরিত্র নেই। এসব কারণে হতাশা ক্রমেই বাড়ছিল।

মৌলি জানান, ঘটনার দিন কাজ নিয়ে হতাশার পাশাপাশি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্যও হয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, তাকে বোঝার মতো কেউ পাশে নেই। সেই আবেগঘন মুহূর্তেই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত ঘুমের ওষুধের পুরো একটি স্ট্রিপ খেয়ে ফেলেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল না। তাঁর মতে, পেশাগত হতাশা ও মানসিক চাপই ছিল এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। পরে বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন মৌলি। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কে প্রকৃত বন্ধু আর কে নয়, সেটিও বুঝতে পেরেছেন।

বর্তমানে তিনি বাসায় ফিরে বিশ্রামে আছেন। তাঁর পরিবার পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়ায় থাকেন। শুরুতে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানাননি। পরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাঁর সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎকারে মৌলি আরও বলেন, এই মুহূর্তে তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিয়মিত কাজ। তার মতে, অভিনয়জগতে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন। সূত্র: আজকাল

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *