নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একটি। রাজধানীতে একটি প্লট, একটি নকশা কিংবা একটি ভবনের অনুমোদনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি টাকার হিসাব। আর সেই প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত একজন সাধারণ অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন আলমকে ঘিরে এখন বিস্ময়, আলোচনা ও অভিযোগের ঝড় বইছে। ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী হয়েও তিনি গড়ে তুলেছেন এমন এক সম্পদ সাম্রাজ্য, যা দেখে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীও ঈর্ষান্বিত হতে পারেন। ঢাকায় বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দামী গাড়ি, পূর্বাচল ও উত্তরায় প্লট, আবার গ্রামের পর গ্রাম জমি-সব মিলিয়ে যেন অবিশ্বাস্য এক উত্থানের গল্প। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই উত্থানের পেছনে নেই কোনো ব্যবসা, নেই বৈধ আয়ের উৎস; বরং আছে ফাইল বাণিজ্য, প্রভাব খাটানো, নকশা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে রাজউকের জোন-৮ এ অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আনোয়ার হোসেন আলমের মাসিক সরকারি বেতন প্রায় ২০ হাজার টাকার সামান্য কিছু বেশি। অথচ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ওয়াসা রোডে রয়েছে তার মালিকানাধীন নয়তলা ভবন। শহীদ ফারুক রোড এলাকায় রয়েছে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এয় উত্তরা ও পর্বাচলে একাধিক প্লটের তথ্যও মিলেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের বড় একটি অংশই রয়েছে স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন কিংবা ঘনিষ্ঠ লোকজনের নামে।
ঢাকার সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগের পর অনুসন্ধানের টিম এবার যায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাজনাবাড়ি এলাকায়-যেখানে আনোয়ার আলমের গ্রামের বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন। এলাকায় সবাই তাকে “আলম স্যার” নামেই চেনে। গ্রামের বাজার, মসজিদ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি মানেই বিশেষ গুরুত্ব। অনেকেই মনে করেন, তিনি রাজউকের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, ঢাকার বড় বড় প্রকল্প ও প্লট বণ্টনের সিদ্ধান্তেও তার প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার চলাফেরা এমন যে, তাকে দেখে কখনোই মনে হয় না তিনি একজন অফিস সহকারী। বরং আচরণ, নিরাপত্তা, গাড়ি বহর ও প্রভাব দেখে অনেকেই তাকে বড় সরকারি কর্মকর্তা বলে ধরে নেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ‘স্যার’ পরিচয়ের পেছনে কাজ করেছে বিপুল অর্থ
সামাজিক প্রভাব তৈরির কৌশল।
মাজনাবাড়ি এলাকায় নিজের অর্থে একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন আনোয়ার আলম। শুধু নির্মাণই নয়, নিয়মিত আর্থিক অনুদানও দেন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। রমজানে ইফতার বিতরণ, কোরবানির সময় গরু দেওয়া, দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের বড় একটি অংশ তাকে ‘দানবীর’ হিসেবেও দেখেন। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এগুলো মূলত নিজের অবৈধ সম্পদের উৎস আড়াল করার সামাজিক কৌশল।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা ভাবতাম আলম স্যার রাজউকের অনেক বড় অফিসার। উনি যা বলেন তাই হয়। কিন্তু এখন বিভিন্ন জায়গায় তার বিষয়ে যেসব তথ্য বের হচ্ছে, তাতে বুঝলাম তিনি আসলে কেরানি পদে চাকরি করেন। তাহলে এত সম্পদ কোথা থেকে এলো?”
আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “গ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসা বানিয়ে উনি সম্মান কিনেছেন। মানুষ যাতে তার টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলে, সেজন্য ধর্মীয় আবহ তৈরি করে রেখেছেন।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাজনাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনার ক্ষেত্রে এক ধরনের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করেছেন আনোয়ার আলম। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকায় কেউ জমি বিক্রির কথা বললেই দ্রুত সেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। এরপর বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম প্রস্তাব দিয়ে জমি কিনে নেন তিনি। ফলে অন্য কোনো সাধারণ ক্রেতা সেখানে আগ্রহ দেখাতে পারেন না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জমি কেনার ক্ষেত্রে তিনি প্রায়ই নগদ টাকার প্রভাব দেখান। অনেক সময় জমির মালিক দাম ঠিক করার আগেই মোটা অঙ্কের বায়না দিয়ে জমি ‘লক’ করে ফেলেন। এতে সাধারণ মানুষও ভীত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে ভবিষ্যতে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে-এমন আশঙ্কাও এলাকায় রয়েছে।
একজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে যদি কেউ বলে জমি বিক্রি করবে, আলম স্যারের লোকজন আগে পৌঁছে যায়। অন্য কেউ দাম বলার সুযোগই পায় না। টাকার কাছে মানুষ হার মেনে যায়।”
স্থানীয়দের মতে, জমি কেনার এই প্রবণতা এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। শুধু নিজের নামে নয়, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও বিশ্বস্ত লোকজনের নামেও তিনি বিপুল জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামের বিভিন্ন মৌজায় ছড়িয়ে থাকা এসব জমির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করাই এখন কঠিন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আনোয়ার আলমের উত্থানের পেছনে রাজনৈতিক আশীর্বাদও বড় ভূমিকা রেখেছে। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম-এর একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে তিনি রাজউকে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পান বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনোয়ার আলম ছিলেন অত্যন্ত ‘চতুর’ প্রকৃতির কর্মচারী। কোন ফাইল কোথায় আটকে আছে, কোন প্লটের নথি ঝুলে আছে, কার নকশা অনুমোদন পেতে সমস্যা হচ্ছে -এসব বিষয়ে তার ছিল বিস্তারিত ধারণা। অভিযোগ রয়েছে, এই তথ্যকে পুঁজি করেই গড়ে তোলেন ফাইল বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক।একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “রাজউকে অফিস সহকারীরা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ন্ত্রণ করে। কোন ফাইল কার টেবিলে যাবে, কোনটা আটকে থাকবে-এসব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থেকেই দুর্নীতি হয়। আলম সেই সুযোগকে ব্যবসায় পরিণত করেছিল।”
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, “তার বিরুদ্ধে ফাইল গায়েব, নথি আটকে রাখা, এমনকি প্রভাবশালী মহলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ বহুদিনের। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না।”
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আনোয়ার আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকাও সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত। তিনি অডিট বিভাগের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি শক্ত আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অবৈধ আয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, জমি ও নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় নির্মিত ভবন ওফ্ল্যাটের ভাড়ার টাকাও এখন তাদের বড় আয়ের উৎস। তবে প্রশ্ন উঠেছে-প্রাথমিক মূলধন এলো কোথা থেকে? একজন অফিস সহকারীর বেতনে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে ওঠে?
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী যাচাই করলে অনেক সময় অবৈধ সম্পদের চিত্র বেরিয়ে আসে। কিন্তু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব থাকলে তদন্ত অনেক সময় এগোয় না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে। যেখানে নিচের স্তরের কর্মচারী থেকে শুরু করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা পর্যন্ত প্লট, নকশা ও ফাইলকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। আনোয়ার আলম সেই সিন্ডিকেটেরই সুবিধাভোগী বলে মনে করছেন অনেকে।
মাজনাবাড়ি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আলমের নির্মিত কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনা বেশ দৃষ্টিনন্দন। স্থানীয়দের অনেকে বলেন, তিনি নিয়মিত ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অঙ্কের অনুদান দেন। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন-এসব অনুদানের অর্থের উৎস কী?
একজন শিক্ষক বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ভালো কাজ। কিন্তু টাকার উৎস যদি অবৈধ হয়, তাহলে সেটি সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। মানুষ এখন প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।”
স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের মানুষকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে তিনি এক ধরনের প্রভাব বলয়ও তৈরি করেছেন। কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা খরচ দেন, আবার কারও সন্তান বিদেশে যেতে চাইলে আর্থিক সহায়তাও করেন। ফলে অনেকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
একজন রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “উনি এলাকায় অনেক টাকা খরচ করেন। তাই অনেকেই তাকে ভয়ও পায়, আবার সুবিধাও নেয়।”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঢাকায় তার চলাফেরাও অনেকটা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মতো। দামী গাড়িতে চলাচল, সঙ্গে একাধিক লোকজন, উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ-সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে সাধারণ কর্মচারীর গণ্ডির বা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আনোয়ার আলম প্রায়ই নিজেকে ‘অত্যন্ত ক্ষমতাবান’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি নাকি বিভিন্ন সময় বলেন, “আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।”
এই বিষয়ে আনোয়ার আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “কত সাংবাদিক দেখলাম। আপনার যা মনে চায় লেখেন। আমার কিছু যায় আসে না। আওয়ামী লীগ আমলে বহু কুতুব দেখছি, কিছু করতে পারে নাই। বিএনপি আমলেও কিছু করতে পারবে না।”
তার এই বক্তব্য এখন স্থানীয়দের মাঝেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, এটি একজন সরকারি কর্মচারীর ভাষা হতে পারে না। বরং এর মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে তার ক্ষমতার বরং এর মধ্যেই দম্ভ।
দুর্নীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে অনেক সময় নিচের স্তরের কর্মচারীরাও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন একই জায়গায় কাজ করতে করতে বিশাল প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ফাইল, অনুমোদন, নথি ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে তারা অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি করেন।
রাজউকের মতো সংস্থায় এই প্রবণতা আরও বেশি।
একজন নগর বিশ্লেষক বলেন, “রাজউকে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু একজন অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে যদি এত সম্পদের অভিযোগ ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে কত বড় অনিয়ম চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল এখন আনোয়ার আলমের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছে। তাদের মতে, শুধু ঢাকার সম্পদ নয়, গ্রামের জমি, আত্মীয়দের নামে থাকা সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা উচিত।
একজন আইনজীবী বলেন, “সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকলে সেটি দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ আলামত। প্রয়োজনে দুদককে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করা উচিত।”
গ্রামের সাধারণ মানুষও এখন ধীরে ধীরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একজন বৃদ্ধ কৃষক বলেন, “চাকরি করলে বেতন থাকে। কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে আসে? আমরা গরিব মানুষ, বুঝি না। তবে এত সম্পদ দেখে অবাক লাগে।”
মাজনাবাড়ি এলাকায় আনোয়ার আলমের প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। কিন্তু সেই প্রভাবের আড়ালে এখন ঘনীভূত হচ্ছে নানা প্রশ্ন। একজন সাধারণ কেরানি কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন? কীভাবে গড়ে তুললেন জমি, ভবন ও প্রভাবের সাম্রাজ্য? ধর্মীয় অনুদান ও সমাজসেবার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে স্থানীয় মানুষ, সচেতন মহল এবং দুর্নীতিবিরোধী মহল। কারণ অনেকের মতে, আনোয়ার আলম কেবল একজন ব্যক্তি নন; বরং তিনি এমন এক ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে ক্ষমতার ছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি মিলেমিশে একজন সাধারণ কর্মচারীকেও ‘অঘোষিত নবাব’ বানিয়ে দিতে পারে।