নিজস্ব প্রতিবেদক:
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে কিংবা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; এর মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব উদ্যোগ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।