বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

ভারতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কঠোর করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কেন্দ্রে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী এবং সাজা শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের রাখা হবে বলে রাজ্যটির সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।বিবিসি জানিয়েছে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়া হয়েছে গত এক বছরে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গের এই প্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জটিলতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো একটি সরকারি নোটে নির্দেশে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণ পদ্ধতি সংক্রান্ত যে নির্দেশ গত বছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, সেই পদ্ধতি মেনে প্রতিটা জেলায় আটক হওয়া বিদেশিদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার করতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশ মেনে ভারতের অন্য অনেক রাজ্যে হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা, যারা অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন বলে সন্দেহ, এমন অনেক মানুষকে আটক করে রাখা হয়। তবে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যে অনেকেই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক।

এদের একটি বড়ো অংশই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওই সব রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিক।

গত বছর এপ্রিলে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পরে ভারতের অনেক রাজ্যেই কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি, ওড়িশা সহ নানা রাজ্যে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের ছিলেন অনেক শিশু ও নারীরাও।

পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এই হাজার হাজার মানুষদের কাউকে ছয়, সাত দিন বা তারও বেশি আটক করে রাখা হয়েছিল। পরিচয় যাচাইয়ের পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া যেমন হয়েছে। তেমনই বেশ কিছু পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশ-আউট’ করে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *