ঘুষে গড়া সাম্রাজ্য! পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিতর্কিত তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘুষ, অনিয়ম ও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে আলোচনায় ছিলেন পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, তৌফিকুল ইসলাম খান ও সাইদুল ইসলাম।
ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তৌফিকুল ইসলাম খানকে বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী শায়লা আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে।পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার বলেন, “অনিয়ম-দুর্নীতি করে পার পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

দুই কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় বরখাস্ত করেছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইদুল ইসলাম পাসপোর্ট অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ করতেন। বিশেষ করে ময়মনসিংহ অফিসে দায়িত্ব পালনকালে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্ল্যাংক পাসপোর্ট ও ভুয়া এনওসির মাধ্যমে সাধারণ ফিতে জরুরি পাসপোর্ট ইস্যু করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

এর মধ্যে রয়েছে নিজ এলাকা সাঁথিয়ায় ১০ বিঘা পুকুর, কাশিয়ানি বাজারে ভবনসহ জমি, ২০ বিঘার ফার্ম, নরসিংদীতে জমির ওপর কারখানা, উত্তরায় প্লট ও ফ্ল্যাট, বছিলা চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে প্লট, শ্যাওড়াপাড়ায় জমি, মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ফ্ল্যাট এবং ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্ল্যাট।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কারখানা স্থাপনের জন্য মেঘনা নদীর তীরে সাত বিঘা জমিও কিনেছেন তিনি। দুদকের হিসাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার (২০ মে) মামলাটি দায়ের করা হয়।

বর্তমানে সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।এদিকে তৌফিকুল ইসলাম খানের নামেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরায় ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ধানমন্ডিতে প্লট, গ্রিন রোডে তিনটি ফ্ল্যাট, লালমাটিয়া, ইন্দিরা রোড ও শান্তিনগরে একাধিক ফ্ল্যাট, নীলক্ষেতে দুটি দোকান এবং বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৪ লাখ টাকার এফডিআর।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *