গুলশান ডিসি এম তানভীর আহমেদকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ—পুলিশ নাকি সরকারের বিরুদ্ধে, প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে

খন্দকার নজরুল ইসলাম :

গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ উঠেছে। এটি ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, নাকি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পিত তৎপরতা কিংবা সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রভাবিত করার উদ্যোগ—এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে তানভীর আহমেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কয়েকজন দাবি করেছেন, অতীতেও তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মির্জা ইয়াসিন আলী নামের এক ব্যক্তি এম তানভীর আহমেদকে নিজের বিভাগের ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তানভীর ওই বিভাগের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-মিরপুর রোডের ছাত্র পরিবহনের ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ওই বক্তব্যে আরও বলা হয়, তানভীর আহমেদের হল ছিল অমর একুশে হল। অন্যদিকে বক্তা শহীদুল্লাহ হলের সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তানভীরের সঙ্গে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে তানভীর ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
তানভীর আহমেদের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তানভীর তার মিরপুরের নিজ বাসার দুটি ফ্লোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর থাকার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন।
বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, তানভীরের মতো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অতীত থাকা কর্মকর্তাদের চাকরি করতে হলে নানা ধরনের চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। বক্তার ভাষ্য, তানভীর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আনুগত্যের কারণে একাধিকবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা শহীদুল্লাহ সুমন বলেন, মির্জা ইয়াসিন আলীর বক্তব্যের প্রতিটি বিষয়ের সত্যতা সম্পর্কে তিনি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আত্মগোপনের পরিস্থিতিতে তানভীর তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।
শহীদুল্লাহ সুমনের অভিযোগ, তানভীরের মতো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা প্রশাসনের ভেতরে কোনো পক্ষকে প্রভাবশালী করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের প্রশাসন থেকে সরিয়ে দিলে এর সুযোগ অন্য কোনো গোষ্ঠী নিতে পারে—এমন আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে।
তবে এম তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তাকে সরিয়ে দেওয়ার কথিত ষড়যন্ত্র কিংবা এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—গুলশানের ডিসি এম তানভীর আহমেদকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি কি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? আর যদি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সেটি কি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে, পুলিশের বিরুদ্ধে, নাকি সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে—এর উত্তরই এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *