নিজস্ব প্রতিবেদক :
বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই তহবিলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
গত ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর ও একাধিক নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।গভর্নর বলেন, ‘বেসরকারি খাতের বর্তমান বাস্তবতায় এ রকম তহবিল ঘোষণার চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ছিল না। তবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় আছে, থাকবে। সামনে এমন অনেক আইন আসবে, যার ফলে ঋণখেলাপি হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানো হবে।’
গভর্নর বলেন, এই বিশেষ তহবিলের কারণে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হবে না। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরিরও শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, এটা ব্যাংকিং খাতেরই টাকা। যেসব ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য আছে, সেখান থেকে নিয়ে যাদের সমস্যা রয়েছে, তাদের দেওয়া হবে। এখানে সরকার কেবল ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর বাইরে কিছু দিচ্ছে না। ফলে তহবিল বিতরণ ও আদায়ের দায়িত্ব ব্যাংকের ওপর। ব্যাংক যখন নিশ্চিত হবে– এই গ্রাহক ভালো, কেবল সেখানেই ঋণ দেবে। এ ছাড়া ব্যাংকেরই টাকা হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর বিষয় নেই। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়নের কারণেও বাজারের ওপর চাপ পড়বে না।
নতুন তহবিল গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। শিল্প খাতে আমাদের কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। অনেক অর্থ পাচার হয়ে গেছে। আমানতকারীর আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল। উচ্চ সুদহারের কারণে এসএমই উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছিল। যাকেই শুনবেন, বলবে তহবিল সংকট রয়েছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পের পুনর্জাগরণ, সবুজ অর্থায়ন, রপ্তানি ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য। আবার রেমিট্যান্সও আরও বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থা ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।