পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলা শহরের তেঁতুলিয়া রোডের এমআর কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের কর্মী-সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এমআর কলেজ মোড়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের কর্মী-সমর্থকেরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে একটি মতবিনিময় সভা হয়। সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে ক্ষোভ চলছিল। এর জের ধরে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *