নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৯ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ থেকে শুরু করে ১৬৪ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প-রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমানের দায়িত্বকাল নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। নথি, অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসছে একগুচ্ছ অসঙ্গতি, যেগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
রাবিপ্রবি ঘিরে সাবেক উপাচার্যের আমলের নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য, কোনটি ভুল কিংবা কোনটির পেছনে প্রশাসনিক ও আর্থিক নথির ভিত্তি আছে—তা নিশ্চিত হতে হলে প্রয়োজন সুষ্ঠু অনুসন্ধান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি রাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর দায়িত্বকালেই দুই দফায় ২৯ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়োগের একটি বড় অংশে পার্বত্য অঞ্চলের বাইরের প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রশ্ন ও দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে রাজনৈতিক পরিচয়কেন্দ্রিক অভিযোগের চেয়ে এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ হয়েছিল কি না, প্রার্থীদের মূল্যায়ন কীভাবে হয়েছে, নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম বিধিসম্মত ছিল কি না, কোরাম ঠিক ছিল কি না এবং অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বিপরীতে পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের জবাব পেতে হলে খতিয়ে দেখতে হবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, মূল্যায়ন শিট, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন, অনুমোদিত জনবল কাঠামো এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট মতামত।
অভিযোগ রয়েছে, আতিয়ার রহমানের আমলে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—কেউ রেজিস্ট্রার, কেউ ডিন, কেউ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কেউ প্রক্টর, আবার কেউ বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। প্রশ্ন উঠেছে, বিতর্কিত নিয়োগের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির আগেই এসব ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে বসানো কতটা যুক্তিসঙ্গত।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্তদের বক্তব্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আতিয়ার রহমানের দায়িত্বকালীন নির্মিত একটি সমন্বিত স্মৃতিফলক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, সেখানে ২০২৪ সালের ঘটনাবলিকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হলেও মুক্তিযুদ্ধের ১৯৭১ সালের ইতিহাস যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এতে স্বাধীনতাকামী মহলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রকৃত নকশা, অনুমোদন প্রক্রিয়া, ব্যয়ের হিসাব এবং স্মৃতিফলকে ব্যবহৃত বক্তব্য পর্যালোচনা করলেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি স্পষ্ট হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানসংলগ্ন ঝগড়া বিল মৌজার নাম পরিবর্তন নিয়ে সাবেক উপাচার্যের মন্তব্য ঘিরেও স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কোনো এলাকার ঐতিহাসিক বা প্রচলিত নাম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে নাম পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, হলে তার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল কি না—তা নথিভিত্তিকভাবে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থ ব্যয় নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ভবন-১ ও প্রশাসনিক ভবন-২-এর ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন এবং ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, ই-জিপি নথি, কার্যাদেশ, প্রাক্কলন, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন, পেমেন্ট অর্ডার এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা। শুধু ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়’ হয়েছে—এমন অভিযোগ যথেষ্ট নয়; বরং কোন কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কত টাকা প্রকৃতপক্ষে ব্যয় হয়েছে, কাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের বাস্তব অগ্রগতি কতটুকু—সেটিই হওয়া উচিত তদন্তের মূল বিষয়।
আরেকটি অভিযোগ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে বিভিন্ন আয় এবং জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অর্থ যে হিসাবে জমা ছিল, আতিয়ার রহমানের দায়িত্বকাল শেষে সেই হিসাবে উল্লেখযোগ্য অর্থ অবশিষ্ট ছিল না। তবে এই দাবির সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ভাউচার, অডিট রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি। অর্থাৎ প্রশ্নটি হওয়া উচিত—কত টাকা জমা ছিল, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রতিটি ব্যয়ের অনুমোদন ও হিসাবরক্ষণ যথাযথ ছিল কি না।
আতিয়ার রহমানের আমলে ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অভিযোগে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটির সুপারিশ ও অনুমোদন যথাযথ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও নথি থেকেই মিলতে পারে।
সাবেক উপাচার্যের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ধরন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো সময় গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারীকে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে তিনি নিজে বিমানে যাতায়াত করেছেন। অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজন গাড়ির লগবুক, জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব, চালকের দায়িত্বপত্র, ভ্রমণ বিল, বিমান টিকিট এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সফরসূচি মিলিয়ে দেখা। এসব নথি মিলিয়ে দেখা গেলেই স্পষ্ট হবে—একই সময়ে সরকারি যানবাহন ও বিমান ভ্রমণের ব্যয় কীভাবে দেখানো হয়েছিল এবং তা বিধিসম্মত ছিল কি না।
সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুরোনো ও নতুন শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন লিখিত অভিযোগ, অফিস আদেশ, সভার কার্যবিবরণী, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্টদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য।
প্রকল্পের ১৬৪ কোটি টাকা: ‘হরিলুট’ নাকি হিসাবের বিভ্রান্তি?
রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা অর্থ ব্যয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ১১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায়, আর দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা পৌঁছায় ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকায়—প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুমোদিত পুরো অর্থ সরকার থেকে ছাড় হয়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—পুরো ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা যদি ছাড়ই না হয়ে থাকে, তাহলে ‘১৬৪ কোটি টাকার হরিলুট’—এমন অভিযোগের ভিত্তি কী?
আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার, অতিমূল্যে ক্রয়, অগ্রিম অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে যাচাই করা জরুরি:
প্রথমত: প্রকল্পটির মোট অনুমোদিত ব্যয় আসলে কত?
দ্বিতীয়ত: সরকার প্রকৃতপক্ষে কত টাকা ছাড় করেছে এবং সেই অর্থের কতটুকু বাস্তবে ব্যয় হয়েছে?
এরপর প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন, পেমেন্ট অর্ডার এবং ব্যাংক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করলেই প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান সরাসরি কতটা সম্পৃক্ত ছিলেন, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি কোন কোন নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন, কোন প্রকল্প কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন, কোন ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছেন এবং কোন অর্থ তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ছাড় হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নথি যাচাই ছাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে অসামঞ্জস্যতা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। ইউজিসির এই পর্যবেক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক উপাচার্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। ফলে পাহাড়ের একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা এগিয়েছে, কোথায় আটকে আছে এবং কেন আটকে আছে—এ প্রশ্নও এখন সামনে চলে এসেছে।
সব মিলিয়ে রাবিপ্রবির আতিয়ার রহমানের আমল নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নথিভিত্তিক স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি, প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থছাড় ও ব্যয়, আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে অডিট নথি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ ও কার্যবিবরণী—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।
দায়িত্বে থাকা রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল গফুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে তিনি সাবেক উপাচার্য আতিয়ার রহমানের মেয়াদে নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়নকাজ, আর্থিক ব্যয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, “আমার বিরুদ্ধেও তদন্ত হোক, তবে তদন্ত হতে হবে সবার জন্য সমান ও স্বচ্ছ।”
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমানের মেয়াদে নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়নকাজ, আর্থিক ব্যয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনিয়ম-দুর্নীতির সত্য বেরিয়ে আসার পরই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে—কোথায় ছিল প্রশাসনিক ভুল, কোথায় ছিল নিয়মের ব্যত্যয়, আর কোথাও আদৌ দুর্নীতি বা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছিল কি না।
এ বিষয়ে ড. মো. আতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো অভিযোগটা কী জানি না, এই বিষয়ে বক্তব্য কী দেব।”
১০ জন শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বহিষ্কার রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তে হয়েছে, রিজেন্ট বোর্ড একলা একলা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—তার আগে তদন্ত কমিটি হয়, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। এর আগে ছাত্ররা বহিষ্কার আদেশ নিয়ে হাইকোর্টেও গিয়েছিল। তাঁর দাবি, এসব তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।
প্রশাসনিক ভবনের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিনা টেন্ডারে” বলতে যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাদের নির্দিষ্ট একটি সোর্সের অর্থ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর দেখেছেন, সেখানে কেউ কাজও করতে পারত না। এরপর ২০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যে কমিটি বিভিন্ন পার্টিকে ডেকে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করিয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, এই কাজ কমিটির মাধ্যমেই করা হয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।