নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠার প্রেক্ষাপটে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যেগ নিয়েছেন।
একাধিক পাসপোর্টে বিদেশ সফর-
দুদকে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শারমিন হেলাল কাস্টমসে বহাল থাকা অবস্থায় সরকারি নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে অন্তত চারবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সরকারি আদেশ (জিও) অথবা অনাপত্তিপত্র (NOC) গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও তিনি এসবের কোনোটিই তোয়াক্কা করেননি।
দুদকে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দুটি পৃথক পাসপোর্ট (নম্বর: BP08670 এবং B001421) ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করেন। তার ভ্রমণের মধ্যে রয়েছে— ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ড সফর, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া সফর এবং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনরায় থাইল্যান্ড সফর।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত-
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারমিন হেলাল ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করেছেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া, ঢাকা ও ময়মনসিং জেলায় তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শারমিন হেলাল ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদ এর জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক ব্যালেন্স ও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অনুসন্ধান করলে জ্ঞাত আয় বর্হির্ভূত সম্পদের প্রমান পাওয়া যাবে সূত্র দাবি করছেন।আবেদনে শারমিন হেলাল ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদ তাদের আয়কর ফাইলে(টিআইন নং-শারমিন:৮২৯৫২৭৪৫৯১১৬; মাহমুদুল ওয়াহিদ:৮১৯৪১২১৬৩০৮৮) সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন;উল্লেখ করে তা তদন্ত করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান-
সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও কর্মস্থল ত্যাগ করা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধ। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত এমনকি চাকরি থেকে স্থায়ী অপসারণের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শারমিন হেলালের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।