পবিপ্রবিতে নিয়ম ভেঙে ডিগ্রি নিয়ে পদোন্নতি নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালা লঙ্ঘন, ভুয়া তথ্য উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত থাকাকালে এক প্রতিষ্ঠানে পড়ার অনুমতি নিয়ে অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে পদোন্নতি নিশ্চিত করেন।

অনুমতি এক প্রতিষ্ঠানে, ডিগ্রি অন্যটিতে
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে হাসান মাহমুদ ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ’ (আইইবি)-র আওতায় এ.এম.আই.ই. (AMIE) কোর্সে ভর্তি ও অধ্যয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে অনুমতি দিলেও তিনি অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

চাকরি বিধি লঙ্ঘন ও শোকজ নোটিশ
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করায় ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর পবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, অনুমতি ব্যতিরেকে এভাবে ডিগ্রি গ্রহণ করা ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি’-র স্পষ্ট পরিপন্থী। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর লিখিত জবাবে হাসান মাহমুদ অনুমতি না নিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন এবং নিজের ভুল মেনে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক পদোন্নতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের নোট শিটেও হাসান মাহমুদের অর্জিত বিএসসি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি না থাকা এবং পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে আসে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসান মাহমুদের বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবাদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সমস্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ‘সহকারী প্রকৌশলী’ থেকে পদোন্নতি প্রদান করে ‘নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল)’ পদে পদায়ন করা হয়। যা ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
​প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এভাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
উত্থাপিত অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই।”
​একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি।” অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে তিনিও কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
​এদিকে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *